কাটছে না আতঙ্ক, দুই সন্তান নিয়ে তালিবানদের হাত থেকে পালিয়ে পোশাক বিক্রেতার ঠাঁই কলকাতায়
তালিবানদের হাত থেকে পালিয়ে পোশাক বিক্রেতার ঠাঁই কলকাতায়
আফগানিস্তানে তালিবানদের দৌরাত্ম্য নিজের চোখে দেখেছে। কখনও ভাবতেই পারেনি তালিবানী শাসন থেকে মুক্তি পাবে তারা। কিন্তু সেই অসম্ভব বিষয়টি সম্ভব হয়েছে। মহম্মদ খান এবং তাঁর দুই কন্যা এখন আতঙ্কের দেশ আফগানিস্তান থেকে অনেক দূরে, ভারতে নিরাপদে রয়েছেন।

তালিবানী আতঙ্ক এখনও চোখে মুখে
মহম্মদের এক কন্যার বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের ১০। এই শিশু বয়সে উভয়ই দেখেছে তালিবানদের নির্যাতন এবং চোখের সামনে মানুষকে খুন করা। কাবুল ছেড়ে তারা এখন চলে এসেছে কিন্তু তারা যেটা দেখেছে তা তাদের রাতের ঘুম উড়িয়ে নিয়েছে, তারা মাঝে মাঝেই আতঙ্কে আঁতকে উঠছে। মহম্মদ খান কাবুলে পোশাক বিক্রি করতেন। তিনি সেখান থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়াতে চলে আসেন। তিনি তাঁর দুই কন্যা মালালা ও পাস্তানাকে নিয়ে এখানে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন। তালিবান আফগানিস্তান দখল করে দেড়ওযার পর তাঁদের সকলের রক্ত ঠাণ্ডা করে দিয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসেন খান
খান বলেন, 'প্রত্যেকদিন তালিবানরা টাকা চাইত। যদি সেটা দিতে ব্যর্থ হতাম তবে আমাদের মারধর করা হত।' তিনি আরও বলেন, '২০১০ সালেও, আমার ওপর তালিবানরা হামলা করেছিল। আমরা অবশেষে এক বন্ধুর সহায়তায় ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি এবং এখানে আসতে সফল হই।' মহম্মদ খান ও তার পরিবার এখন আর আফগানিস্তান ফিরে যেতে চান না। তিনি বলেন, 'আমি সত্যিই খুব ভয়ে রয়েছি এখনও। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমরা বেঁচে রয়েছি।' তিনি এও জানিয়েছেন যে তিনি এখন ভারতে থাকতে চান এবং তার জন্য তিনি ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন।

সাহায্য করেছে স্থানীয়রা
খান জানিয়েছেন যে তিনি বরাবর তালিবানদের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি দেখেছেন যে তালিবানদের বিরুদ্ধে যাওয়া মানুষদের সঙ্গে তালিবানরা কি ধরনের আচরণ করেছে। তাঁর মেয়ে মালালা ও পাস্তানা হিন্দি বা অন্য কোনও ভারতীয় ভাষা জানে না। তবে খান জানিয়েছেন যে তিনি কলকাতা শহরের কাছে হাওড়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে অপরিসীম সহায়তা পেয়েছেন। খান জানান যে অন্যের বাড়িতে থাকা খুবই কঠিন, কিন্তু এটা বেঁচে থাকার জন্য জরুরি।

কলকাতায় চলে এসেছেন ৫০ জনের বেশি আফগান
জানা গিয়েছে, ৫০ জনের বেশি আফগানিস্তান থেকে কলকাতা চলে এসেছে এবং তাঁরা সকলে কলকাতার আশেপাশে রয়েছেন। তাঁদের মনে এখনও ভয় রয়েছে যে বাড়ি ফিরে গেলে তাঁদের অবস্থা কেমন হবে। তাঁরা এও জানেন যে এখনই সবকিছু ঠিক হওয়া সম্ভব নয় এবং মহম্মদ খানের মতো অনেকেই রয়েছেন যাঁরা আর আফগানিস্তানে, তাঁদের শেকড়ে ফিরে যেতে চাইছেন না।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications