২০ তৃণমূল বিধায়ক-সাংসদ পা বাড়িয়ে বিজেপিতে! নেতার কথায় জল্পনা
২০১৫ সালে মুকুল রায়ের নাম সারদাকাণ্ডে জড়িয়ে যাওয়ার পরই তৃণমূলে ভাঙন প্রকট হয়ে ওঠে। তৃণমূলের একটা বড় অংশ বিজেপিতে যোগ দিতে পারে বলে রটে যায়। কিন্তু তৃণমূলে ভাঙন ধরেনি। এবার কি সফল হবে বিজেপি?
তৃণমূলে আরও বড় ভাঙন অবশ্যম্ভাবী। ২০ বিধায়ক ও সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন বলে জল্পনা বাড়ালেন বিজেপি নেতা। রাজ্য বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর কথায়, 'এবার আর ২০১৫ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না। অপেক্ষা করুন। পুজোর পরই স্পষ্ট হয়ে যাবে রাজনৈতিক দলবদলের চিত্রটা।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে নয়া মঞ্চ বা দল গড়া মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা। আর এই সার সত্যটা সবাই বুঝে গিয়েছেন অনেক তৃণমূল নেতাই। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত দলের দিকেই ঝুঁকে রয়েছেন। তৃণমূলে কোণঠাসা নেতারা ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ রাখছেন। তাঁরাই পুজো পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। তারপরই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার লম্বা লাইন পড়ে যাবে।'

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মুকুল রায়ের নাম সারদাকাণ্ডে জড়িয়ে যাওয়ার পরই তৃণমূলে ভাঙন প্রকট হয়ে ওঠে। তৃণমূলের একটা বড় অংশ বিজেপিতে যোগ দিতে পারে বলে রটে যায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত তৃণমূলে ভাঙন ধরেনি। সেই ভাঙন রুখে পরের বছরই বিধানসভায় দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করে তৃণমূল।
এবার নারদ তদন্তে সিবিআই অগ্রসর হওয়ার পরই তৃণমূলে ভাঙন সম্ভাবনা জোরদার হয়ে ওঠে। তারপর মুকুল রায়ের দলে কোণঠাসা হয়ে পড়া এবং অভিষেকের উত্থানে প্রতিকূল হাওয়া বইতে শুরু করে তৃণমূলের অন্দরে। এই অবস্থায় মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়তে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়।
সেইসঙ্গে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায় নতুন দল গড়ার ঝুঁকি না নিয়ে মুকুল রায় বিজেপিতেও পাড়ি জমাতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। তিনি বলেন, শুধু মুকুল রায় নন, তৃণমূলের একটা বড় অংশ বিজেপিতে আসার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন। পঞ্চায়েত ভোটের আগেই রাজ্যের চিত্রটা আমূল বদলে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারপর বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর গলাতেও এক সুর। তিনি আবার বললেন, 'পুজোর পরই তৃণমূল ভাঙন শুরু হবে। অনেক বড় নাম অপেক্ষা করছে। এই তালিকায় রয়েছেন অনেক বিধায়ক, সাংসদও। এবার আর ২০১৫-র মতো আমরা ব্যর্থ হব না। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই যাঁরা বিজেপিতে আসতে চান তাঁদের গ্রহণ করব। তবে গ্রহণ করার আগে তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ডও বিবেচনা করব।'
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, 'তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা প্রায় বেজে গিয়েছে। ২০১৯-এই সেই প্রমাণ পাবে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রায় ১২ জন তৃণমূল নেতা-সাংসদ-মন্ত্রী সিবিআই-স্ক্যানারে রয়েছেন। তাঁদেরও স্থান হবে কারান্তরালে। তৃণমূলে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো লোকই থাকবে না অদূর ভবিষ্যতে। সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিজেপি। এবং বাংলা দখলের হিসেব কষছেন এখন থেকেই। '












Click it and Unblock the Notifications