RG Kar Hospital: থ্রেট কালচার-সহ নানা অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ ৫৯ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে, ১০ জনের বহিষ্কার দিয়ে শুরু
RG Kar Hospital: আরজি কর হাসপাতাল থেকে ১০ জন চিকিৎসককে বহিষ্কার করা হলো। তাঁদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হস্টেল ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হলো স্পেশ্যাল কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকের পর।
এ ছাড়া থ্রেট কালচার-সহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত আরও ৪৯ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

আরজি কর হাসপাতালের প্ল্যাটিনাম জুবিলি ভবনে শনিবার দুপুর থেকেই শুরু হয় কাউন্সিলের বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং ইন্টার্নদের প্রতিনিধিরা। দাবি ছিল, হাসপাতালে হুমকি সংস্কৃতিতে অভিযুক্ত ৫৯ জনকে অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে।
এর পরেই বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় কাউন্সিল। জানানো হয়, ১০ জন চিকিৎসককে আরজি কর থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। সব অভিযুক্তের নামের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে আরজি কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
যে ১০ চিকিৎসককে বহিষ্কার করা হলো তাঁরা হলেন ডা. সৌরভ পাল (সিনিয়র রেসিডেন্ট), ডা. আশিস পাণ্ডে, ডা. আয়ুশ্রী থাপা ও ডা. অভিষেক সেন (হাউস স্টাফ), নির্জন বাগচি, সরিফ হোসেন ও নীলাগ্নি দাস (ইন্টার্ন), অমরেন্দ্র সিং (থার্ড প্রফেশনাল পার্ট ১), সৎপাল সিং ও তনবীর আহমেদ কাজী (সেকেন্ড প্রফেশনাল)।
এঁদের সকলের বিরুদ্ধেই কলেজ চত্ত্বরে যৌন নির্যাতন, র্যাগিংয়ের মতো ঘটনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ থাকায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন কমিটিতে তাঁদের নাম পাঠাতে হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের হস্টেল ছাড়তে বলা হয়েছে। তাঁদের নাম রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে পাঠানো হবে উপযুক্ত পদক্ষেপের জন্য। ডেকে পাঠানো হবে অভিভাবকদের। কনডাক্ট সার্টিফিকেটেও তাঁদের কৃতকর্মের কথা উল্লিখিত থাকবে।
আরও ২৭ জনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হস্টেল ছাড়তে বলা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে এই ২৭ জনের বিরুদ্ধে। হাউস স্টাফ, ইন্টার্ন, থার্ড প্রফেশনাল পার্ট ১ ও সেকেন্ড প্রফেশনালদের নাম রয়েছে। তাঁদের নামও পাঠানো হবে বিভিন্ন কমিটিতে, সব খতিয়ে দেখে তাঁদেরও শাস্তি হবে।
এই ২৭ জনের মধ্যে ডাক্তারি পাঠরতদের কলেজ চত্ত্বরে অন্তত ১ বছর প্রবেশ নিষিদ্ধ। শুধু দুটি সিমেস্টারের পরীক্ষা দিতে বা কোনও তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে তাঁদের কলেজ চত্ত্বরে প্রবেশের অনুমোদন থাকবে। ইন্টার্নদের ইন্টার্নশিপ করা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে ৬ মাসের জন্য। হাউস স্টাফদের কার্যকালের মেয়াদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করা হবে, সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে হাউস স্টাফ ইভ্যালুয়েশন কমিটি।
আরও ১৬ জনকেও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হস্টেল ছাড়তে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তাঁদেরও অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো হবে আরজি করে। এই ক্যাটাগরিতে যাঁদের নাম আছে তাঁরা ছয় মাস কলেজ চত্ত্বরে ঢুকতে পারবেন না। পরীক্ষা বা তদন্তের কাজ ছাড়া। ইন্টার্নশিপ বাতিল তিন মাসের জন্য। হাউস স্টাফদের ক্ষেত্রেও আগের ক্যাটাগরির মতো পদক্ষেপ করা হবে। ডা. বিসি রায় হাসপাতালের ডা. দেবাঙ্গন ধর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হস্টেলে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এই ৫৯ জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছে তার মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষায় ফেল করানো ও হস্টেল থেকে বের করার হুমকি দেওয়া, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো, বিশেষ করে রাতে। একটি রাজনৈতিক দলে যোগদান ও তাদের মিছিলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া। সকলকে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাতে বয়েজ কমন রুমে ডাকা। যৌন হেনস্থা ও আপত্তিকর আচরণ। জুনিয়রদের রাতে ড্রাগ ও মদ কিনতে পাঠাতে জোর দেওয়া। কলেজ ইভেন্টের জন্য অডিটের বাইরে জোর করে অর্থ সংগ্রহ। টাকার বিনিময়ে ইন্টার্ন বা হাউস স্টাফদের ডিউটি বদল। ইন্টার্নশিপ সম্পূর্ণ না করার হুমকি দেওয়া। যৌন হেনস্থা-সহ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এফআইআর দায়ের। মানিকতলা হস্টেলে পড়ুয়াদের উপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো। বাবা-মায়ের নাম নিয়ে কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার। এঁদের মধ্যে অনেকেই সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications