হোমের আড়ালে শিশু পাচার, ঠাকুরপুকুর থেকে উদ্ধার ১০ শিশুকন্যা
হোমের আড়ালে শিশু পাচার, ঠাকুরপুকুর থেকে উদ্ধার ১০ শিশুকন্যা। বাদুড়িয়ার শিশু পাচারের জাল ছড়িয়ে রয়েছে গোটা শহরেই।
ঠাকুরপুকুর, ২৫ নভেম্বর : বাদুড়িয়া, কলেজ স্ট্রিট, বেহালার পর এবার ঠাকুরপুকুর। বাদুড়িয়ার শিশু পাচারের জাল ছড়িয়ে রয়েছে গোটা শহরেই। ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে এক একটা নার্সিংহোম ও এনজিও-র কেচ্ছা-কাহিনি। ঠাকুরপুকুরের একটি হোম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১০ শিশুকন্যাকে। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১ মাস থেকে ১০ মাস।
পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের রাখা হত ওই হোমের দোতলায়। হোমের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই শিশু পাচার চক্র চলত এখানে। এই ঘটনায় হোম মালিক লীলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যোগ মিলেছে বাদুড়িয়ার পাচার চক্রের।

ঠাকুরপুকুরের বাখরাহাট রোডে 'পূর্বাশা' নামে একটি মানসিক প্রতিবন্ধীদের হোম চালাতেন রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হোমেই হানা দিয়ে চক্ষু চরকগাছ সিআইডি-র। একতলায় মানসিক প্রতিবন্ধীদের থাকার ব্যবস্থা। আর দোতলায় শিশুদের। সদ্যোজাত থেকে দশমাস, এক বছরের শিশু চুরি করে রাখা হত এই হোমের দোতলায়। শিশুদের কান্না যাতে বাইরে না পৌঁছয়, তার জন্য সব বন্দ্যোবস্ত করা ছিল। চরম অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশে ওই শিশুদের রাখা হত।
ওই হোমের দোতলার একটি ঘরে শিশুদের কান্না থামানোর জন্য ছিল দোলনার ব্যবস্থা। কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল দোলনা। আর মশা তাড়ানোর জন্য জ্বালানো হত ডিম রাখার কার্টুন। সিআইডি এদিন তদন্ত নেমে জানতে পারে পাচারের আগে এই ঘরে শিশুদের আটকে রাখা হত। কাক-পক্ষীতেও যাতে টের না পায়, রাতের অন্ধকারে শিশুদের আনা হত। আবার রাতের অন্ধকারেই তারা পাচার হয়ে যেত। বাদুড়িয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শিশু পাচার চক্রে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি জানতে পারে ঠাকুরপুকুরের এই হোমের কথা। অভিযান চালিয়ে ১০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১ থেকে ১০ মাস।
সিআইডি তদন্ত নেমে আরও জানতে পেরেছে বাদুড়িয়া বা বেহালার নার্সিংহোমের সঙ্গে এই হোমের যোগসূত্র রয়েছে। বাদুড়িয়া ও বেহালার জেমস লং সরণী থেকে সদ্যোজাত শিশুদের এনে এই হোমে রাখা হত। তারপর ডিল ফাইনাল হওয়ার পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নতুন বাবা-মা'র হাতে তুলে দেওয়া হত শিশুদের।












Click it and Unblock the Notifications