শতাব্দীর ষষ্ঠ 'উষ্ণতম' বছর ছিল ২০২১ সাল! চিন্তা বাড়িয়ে ২০২২-এর ভবিষ্যদ্বাণী নাসার
শতাব্দীর ষষ্ঠ 'উষ্ণতম' বছর ছিল ২০২১ সাল! চিন্তা বাড়িয়ে ২০২২-এর ভবিষ্যদ্বাণী নাসার
বর্তমানে বাড়তে থাকা উন্নতির সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে বেশ কিছু সমস্যাও। যার মধ্যে প্রধান হল বিশ্ব উষ্ণায়ণ। ক্রমবর্ধমান উন্নত প্রজুক্তির খেসারদ দিতে হয় সকলের অজান্তেই। আর তা দিতে হয় প্রকৃতিকে। পরিবেশে লাগাতার বাড়তে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড, মনোক্সাইডের মত গ্রিন হাউস গ্যাস অদৃশ্য শত্রুর মত আক্রমণ করে চলেছে এই বিশ্বকে। আর যার ফল স্বরূপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়া গ্লোবাল ওয়ার্মিং। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, ৯০-এর দশক থেকে ২০২২, এর মধ্যবর্তী ৩০ বছরের মধ্যে একটু একটু করে অনেকটাই পাল্টেছে ভারতের সার্বিক জলবায়ু। আর তার উদাহরণ হল অসময়ে বৃষ্টি, লাগাতার বন্যা, পাহাড়ে হরপা বাণ, প্রচণ্ড খরায় ভূমি ধ্বস এবং সর্বোপরি প্রতি বছরেই ভারতীয় উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়। আর এবার সামনে এল নতুন তথ্য। বিগত শতাব্দী থেকে এখনও পর্যন্ত, ২০২১ সাল ভারতের পঞ্চম উষ্ণতম বছর।

বিশ্ব রেকর্ডে উষ্ণতম বছর
সম্প্রতি বেশ কিছু জায়গায় সদ্য ফেলে আসা বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের বিশ্বব্যাপী সার্বিক তাপমাত্রা প্রকাশ করেছে। সেইসব প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে রেকর্ড তৈরি করেছে উষ্ণতায়। তাপমাত্রার নিরিখে ফেলে আসা বছরটি ষষ্ঠতম উষ্ণতম বছর হিসেবে সিদ্ধ হয়েছে। আর সেই হিসেবে ২০২১ সাল পঞ্চম উষ্ণতম বছর ছিল ভারতের। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা বলছেন যে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়ন প্রবণতা, যা ভবিষ্যতেও ত্বরান্বিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এই কথাতেই চিন্তা বাড়ছে পরিবেশ প্রেমীদের। কারণ বিজ্ঞানীদের কথা সত্যি হলে আগামী বছরগুলিতেও এই উষ্ণায়ণের প্রবণতা বজায় থাকবে। আর যা যথেষ্ট উদ্বেগ জনক।

উষ্ণায়ণে নাসার হুঁশিয়ারি
মার্কিন মহাকাশ ও বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা নাসা গত বৃহস্পতিবার তাদের বৈশ্বিক তাপমাত্রা গণনার রিপোর্ট পেশ করেছে। আর তাতেই দেখা গিয়েছে অতি-উষ্ণ বছরের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ২০২১ সাল। সেই সঙ্গে মার্কিন বিজ্ঞান সংস্থা ন্যাশনাল ওসিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ এবং ২০২০র উষ্ণতার পরেই রয়েছে ২০২১-এর স্থান। আর এই তথ্যে শিলমোহর দিয়ে নাসা জানাচ্ছে ২০১৬ থেকে ২০২০ মাত্র ৪ বছর, আর ২০২০ এবং ২০২১ অর্থাৎ পর পর দুই বছরেই বিশ্বের উষ্ণতার পরিমাণ এত বৃদ্ধি পাওয়া মোটেই ভালো ইঙ্গিত নয়।

লা-নিনার উল্টো-পুরাণ
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিগত বছরে ততটা কার্যকরী হয়নি লা-নিনা। যার ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠে বাড়তে থাকা উষ্ণতা প্রশমিত করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে মাতা প্রকৃতিকে। এবার একটু জানা যাক কী এই লা-নিনা। 'লা-নিনা' হল একটি স্প্যানীশ শব্দ, যার অর্থ ছোট্ট বালিকা। লা নিনার প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে ও পূর্ব উপকূলে শুষ্ক পরিবশ তৈরি হয়। এই লা-নিনার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূল বরাবর দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে শীতল সমুদ্র স্রোতের প্রবাহ হয়। যার ফলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়, যা আয়ন বায়ুর পশ্চিমমুখী গমনকে প্রভাবিত করে। এই শীতল বায়ুর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার উত্তর অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। যা মূলত বাড়তে থাকা উষ্ণতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে সেই লা-নিনাই তার পরিমাণ মত শীতলতা উৎপন্ন করতে সক্ষম হচ্ছে না, যার ফলে বাড়ছে বিশ্ব উষ্ণায়ণ।

আট বছরে ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা
মার্কিন সংস্থা 'নাসা' ও 'নোয়া' একত্রেই স্বীকার করেছে যে বিগত আট বছরে যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ণ, সত্যিই নজির বিহীন। প্রাকৃতিক পরিবর্তনশীলতার নিরিখে বিচার করতে গেলে বিগত ১০ বছরের সময়কালে আগের ১৪০ বছরের তুলনায় গড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এটা যদি ভেবে নেওয়া হয় যে মাত্র ২ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধিতে কী আর হবে! সেটাই সবথেকে বড় ভুল, কারণ মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে গড়ে ২ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির অর্থ হল, ধরা যাক এখন যদি কলকাতার স্বাভাবিক গড় উষ্ণতা গরমকালে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তাহলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ ডিগ্রি। অর্থাৎ সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নিরিখে তা ৪২ ডিগ্রি থেকে হবে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ আগামী ২৫ বছরের হিসেবে তা যাবে প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়ারের আশেপাশে, যা অত্যন্ত উষ্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করবে। এর ফলে ব্যাপক প্রভাব পড়বে প্রাণীর জীবনচক্রে।

প্রমাদ গুনছে ২০২২
২০২০, ২০২১ এর পর এবার পালা ২০২২ সালের। নাসার বিজ্ঞানীদের ধারনা রেকর্ডে সেরা ১০ উষ্ণতম বছরের তালিকায় নাম থাকতে চলেছে ২০২২ সালের তা মোটামুটি ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত। তার উপরেও চিন্তা বাড়িয়ে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা বিশ্ব রেকর্ডে ১৯০১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে পারে ২০২২ সাল, এটা মোটামুটি ১০ শতাংশ নিশ্চিত। এখন প্রশ্ন হল যদি এই হারেই চলতে থাকে তাহলে সেই দিন দূর নেই যেখানে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী সৌর জগতের অন্যান্য গ্রহের মতই শুস্ক মরু প্রান্তরে পরিণত হবে। আর সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে লাগাতার বাড়তে থাকা এই উষ্ণতার জন্যই।
হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা 'ইন্টারস্ট্রেলার' এর ধারনার কি তবে সত্যিই শুরু হয়ে গেল পৃথিবীতে? এই প্রশ্নই উঠছে বার বার।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়












Click it and Unblock the Notifications