ঘরে-বাইরে কোণঠাসা ইমরান, বিশ্বমঞ্চে মুখ পুড়িয়ে গদি টলমল পাক প্রধানমন্ত্রীর
ঘরে-বাইরে কোণঠাসা ইমরান, বিশ্বমঞ্চে মুখ পুড়িয়ে গদি টলমল পাক প্রধানমন্ত্রীর
ক্রিকেট জীবনের হিরোর তকমা আস্তে আস্তে রাজনীতিবিদ ইমরানের থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোণঠাসা হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও ক্রমশ চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন ইমরান।

এফএটিএফ এর রিপোর্টে ডাহা ফেল ইমরান প্রশাসন
পাকিস্তানের তরফে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার ইস্যুতে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশান টাস্কফোর্সের তোপের মুখে পড়েছে ইমরান প্রশাসন। সংগঠনের তরফে পাকিস্তানকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদত বন্ধের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এফএটিএফ এর রিপোর্টে সাফ বার্তায় বলা হয়েছে যে ২৭ টির মধ্যে ২২ টি অ্যাকশন প্ল্যানে ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও কোণঠাসা ইমরান
তবে এই বিষয়টি মোকাবিলা করার আগেই নিজের দেশে বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন ইমরান খান। পাকিস্তানজুড়ে জমিয়ত উলামা-ই ফজল সহ ৯টি বিরোধী দলের একটি জোট ৩১ অক্টোবর লাহোর থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত আজাদি মার্চ করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরান খান সরকারকে অদক্ষ ও অবৈধ ঘোষণা দিয়ে এই বিক্ষোভের জাক দেন জমিয়ত উলামা-ই ফজলের প্রধান ফজলুর রহমান।

ইসলামাবাদে বিরোধীদের আজাদি মার্চ
পাকিস্তানের অর্থনীতি সামাল দিতে এমনিতেই সরকার হিমশিম খাচ্ছে। তার উপর ফজলুর রহমানের বিক্ষোভের ঘোষণায় দেশটিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা বাড়ল। পাশপাশি আরও কোণঠাসা অবস্থায় পরেছে ইমরান খান। জমিয়ত উলামা-ই ফজলের এই বিক্ষোভে নিজেদের গা বাঁচিয়ে সায় দিয়েছে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোও। এদিকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে সরকার বলছে, রাজধানীর জনজীবন কাউকেই অচল করতে দেয়া হবে না। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে এরমই এক আজাদি মার্চের মাধ্যমে তৎকালীন নওয়াজ শরিফের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিল ইমরানের নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই-ইনসাফ।

দীর্ঘ বিক্ষোভের জন্য তৈরি বিরোধীরা
যারা আজাদি পদযাত্রায় অংশ নিতে চলেছে তাদের খাবার-দাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে সেখানে যেতে আহ্বান জানিয়েছে জমিয়ত। যাতে তারা অন্তত পাঁচ দিন চলতে পারেন। দলটি তাদের নেতাকর্মীদের ৩২ দফার নির্দেশনা দিয়েছে। জেইউআই-এফের সিন্ধুপ্রদেশের প্রাদেশিক আমির মাওলানা রশিদ সুমরো এই নির্দেশনা জারি করেন। গাড়ি ভাড়া করে লোকজনকে একমুখী পথ দিয়ে ইসলামাবাদে নিয়ে আসতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জমিয়তের স্থানীয় স্তরের সংগঠনগুলিকে। ইসলামাবাদে অন্তত সপ্তাহব্যাপী অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে জমিয়তের নেতাকর্মীদের।

কাশ্মীর প্রসঙ্গেও আন্তর্জাতিক মহলে মুখ পুড়েছে
এছাড়া চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যুকে তুলে মুখ পুড়েছে ইমরান খান প্রশাসনের। নিজের দেশেও এই ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ইমরান খানকে। পাকিস্তানের বিরোধী দলনেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারের মনোভাবের সমালোচনা করে বলেছিলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উচিত শ্রীনগর ভুলে মুজ়ফ্ফরাবাদকে (পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী) বাঁচানোর কথা ভাবা ।"












Click it and Unblock the Notifications