কনস্টেবলকে থাপ্পড় দেয়া সেই পুলিশ কর্মকর্তার কি কোন শাস্তি হবে?

ঢাকায় ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সহিংসতার সময় পুলিশের একজন কনস্টেবলকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার থাপ্পড় দেয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে?

ডিউটি করার সময় একজন নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার থাপ্পড় দেয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে
Getty Images
ডিউটি করার সময় একজন নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার থাপ্পড় দেয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে

ঢাকার নিউমার্কেটে ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সহিংসতার সময় পুলিশের একজন কনস্টেবলকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার থাপ্পড় দেয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

ওই ঘটনায় পুলিশ কি ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এটা পুলিশের নিজেদের ব্যাপার বলে তারা মনে করছেন।

তবে পুলিশের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই আচরণ পুলিশের কোড অব কন্ডাক্ট বিরোধী, কর্মকর্তাদের উচিত তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া।

কি রয়েছে ভিডিওতে

ওই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে, যখন ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আর ছাত্রদের মধ্যে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল পুলিশ।

প্রথমদিকে পরিস্থিতি সামলাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ভূমিকা দেখা যায়নি।

তবে বেলা একটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলে ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এরই এক পর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মঙ্গলবার নিউমার্কেট এলাকায় ওই সহিংসতার সময় পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা অন্যদের কাছে জানতে চান, 'কারও কাছে গুলি আছে?' বলে প্রশ্ন করতে দেখা যায়। এর এক পর্যায়ে অস্ত্র হাতে থাকা কনস্টেবল পদের একজন পুলিশ সদস্যকে তিনি থাপ্পড় মারেন।

এই সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ যথাসময়ে ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ
Getty Images
এই সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ যথাসময়ে ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

সোমবার রাত থেকে নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের সঙ্গে যে সংঘর্ষ শুরু হয়, তা ঠেকাতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে পুলিশ দীর্ঘ সময় নিয়েছে।

সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে একপর্যায়ে পুলিশের রাবার বুলেট শেষ হয়ে যায়। তখন ওই কর্মকর্তা গুলি ছুড়তে অন্য সদস্যদের নির্দেশ দেন। সেই সময় গুলি না থাকায় উত্তেজিত হয়ে তিনি ওই থাপ্পড় দেয়ার ঘটনা ঘটান।

থাপ্পড়ের ঘটনা নিয়ে কী বলছে পুলিশ

যে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্য পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে, তিনি রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। কনস্টেবল পদের একজন সদস্যকে তিনি চড় দিলেও ওই সদস্যের নাম জানা যায়নি।

এই বিষয়ে কথা বলতে এডিসি হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি স্যারের রুমে রয়েছেন, পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর আর ফোন রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমি ভিডিওটি দেখিনি। কী পরিস্থিতিতে বা কেন এডিসি অন্য সদস্যকে থাপ্পড় মেরেছেন নাকি মারেননি, তা জানা নেই। তবে রমনার ডিসি যদি এ বিষয়ে কোন রিপোর্ট করেন, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।"

তবে এই বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''এটা আমাদের ইন্টারনাল ব্যাপার। এটা নিয়ে আমরা পরে কথা বলবো।''

এ নিয়ে তদন্ত হবে কিনা, কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, তা তিনি বলতে রাজি হননি।

তবে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, ''পুলিশের তো কোড অব কন্ডাক্ট (আচরণবিধি) আছে। কারও কর্মকাণ্ডে যদি অসন্তুষ্টি থাকে, তাহলে সেটা বলারও ভাষা আছে। কিন্তু শারীরিকভাবে আঘাত করা, এটা তো একটা অফেন্সের পর্যায়ে পড়ে। এটা কোনমতে গ্রহণযোগ্য নয়।''

তিনি আশা করেন, নিশ্চয়ই ডিপার্টমেন্ট এটা তলিয়ে দেখবে। কারণ এ ধরণের ঘটনায় তৃণমূল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এটা সিরিয়াসলি দেখা উচিত।

ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে
Getty Images
ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে

পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ খুব বিরল না হলেও, যারা এর শিকার হন, তারা নিজেদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ তোলেন না।

দুই বছর আগে, সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবিতে বামনায় একটি মানব বন্ধন চলার সময় পুলিশের এক এএসআইকে প্রকাশ্যে চড় মারার অভিযোগ উঠেছিল থানার ওসির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সেই কর্মকর্তাকে থানা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য জানা যায়নি।

বিভিন্ন ঘটনায় নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করারও অভিযোগও ওঠে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

সাবেক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান বলছেন, যেহেতু ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর হলে অভিযোগ আসলো কিনা, সেটার জন্য অপেক্ষা না করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরিভাবে দরকার। না হলে কিন্তু একটা ভুল বার্তা যাবে। এখানে পুলিশের ভাবমূর্তিরও একটা প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

মারিউপোলে আত্মসমর্পণের জন্য রুশ আল্টিমেটামে সাড়া দেয়নি ইউক্রেন

টাকার নতুন নোটের নকশা কেন ও কীভাবে বদলানো হয়

কীভাবে 'আই-এসের প্রিয়' মাদক ক্যাপ্টাগন ব্যবসার কেন্দ্র হলো সিরিয়া

নিউমার্কেটের সংঘর্ষে প্রাণ গেল পথচারীর, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত

BBC
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+