জনমত নয়, শ্রীলঙ্কার সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে বিক্রমাসিংহে
জনমত নয়, শ্রীলঙ্কার সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে বিক্রমাসিংহে
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের সাঁড়াশি আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কার জনজীবন। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে আশ্রয় নিয়েছেন। গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের পর শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। ২০ জুলাই শ্রীলঙ্কার সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে রনিল বিক্রমাসিংহের পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দলনেতা সজিথ প্রেমদাসা রয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চার প্রার্থী
শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে গোতাবায়া রাজপক্ষে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার শ্রীালঙ্কার সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে একটি বৈঠক হয়। সেখানেই রনিল বিক্রমাসিংহে, বিরোধী দলনেতা সজিথ প্রেমদাসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কসবাদী জেভিপি নেতা অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এবং এসএলপিপির হয়ে দুল্লাস আলাহাপেরুমা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শ্রীলঙ্কার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে সংসদে ১৩ মিনিটের একটি অধিবেশন হয়। সেখানে সংসদের মহাসচিব ধম্মিকা দাসানায়েক জানান, প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য রয়েছে। এরপরেই চার প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শ্রীলঙ্কার নয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে কে
২২৫ আসনের শ্রীলঙ্কার সংসদে রাজপক্ষের পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) পার্টির আধিপত্য রয়েছে। দলের অভ্যন্তরে রনিল বিক্রমাসিংহকে সমর্থনের আভাস পাওয়া গিয়েছে। এসএলপিপি-র অনেক সাংসদ বিক্রমাসিংহকে সমর্থন করতে চাইছে। যদিও এই নিয়ে রাজাপক্ষের দলের অভ্যন্তরে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, দলীয় সদস্য ছাড়া কাউকে সমর্থন করা সঠিক হবে না। এক্ষেত্রে দলের তরফে এসএলপিপি নেতা দুল্লাস আলাহাপেরুমাকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়ে এসএলপিপির সমর্থনের ওপরেই রনিল বিক্রমাসিংহকে নির্ভর করতে হচ্ছে। দলের বেশিরভাগ সাংসদ নিজেদের প্রার্থীকে ছেড়ে রনিল বিক্রমাসিংহের পক্ষে ভোট দেবেন, এই সম্ভাবনা কম।

জনগণের আড়ালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
১৯৭৮ সালের পর কখনও সংসদে ভোটের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়নি। এতদিন সাধারণ ভোটে শ্রীলঙ্কার মানুষ নিজের পছন্দের নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করে এসেছেন। ১৯৭৮ সালের পর ২০২২ সালে প্রথম সংসদে গোপন ভোটের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে। তবে শ্রীলঙ্কা অতীতে কখনও এই ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেও পড়েনি। ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসকে হত্যা করা হয়। সেই সময় প্রেসিডেন্ট পদ ফাঁকা ছিল। সেই সময় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বিডি উইজেতুঙ্গাকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

সিঙ্গাপুরে আশ্রয় গোতাবায়ার
তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা জুড়ে। দেশ জুড়ে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে কলম্বোয় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের সরকারি বাসভবনেও বিক্ষোভকারীরা হানা দেন। তবে বিক্ষোভকারীদের হামলার আগেই গোতাবায়া রাজাপক্ষে নিজের বাসভবন ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে জানা যায় বুধবার রাতেই তিনি বিমানে মালদ্বীপ চলে যান। সেখান থেকে তিনি সিঙ্গাপুরে আশ্রয় নেন বৃহস্পতিবার। শুক্রবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। এর আগে, মে মাসে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মহিন্দা রাজাপক্ষে। সেই সময় দেশের পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী হন রনিল বিক্রমাসিংহে।












Click it and Unblock the Notifications