ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির ছাই ভারতে কেন ছড়াল, কেনই বা থমকাল ফ্লাইট পরিষেবা? জানুন
প্রায় ১২ হাজার বছর পর বিস্ফোরিত হয়েছে ইথিওপিয়ার হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি। সেই অগ্নুৎপাতের আকাশচুম্বী ছাইয়ের মেঘ সোমবার রাতেই উত্তর পশ্চিম ভারতের আকাশ অন্ধকার করে দেয়। ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিমি বেগে ছুটে আসা এই ছাইমেঘ রাজস্থান ও গুজরাট পেরিয়ে দিল্লী, এনসিআর, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রের উপরে ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে সন্ধ্যা থেকেই ব্যাহত হতে থাকে আকাশপথ।
দুর্ঘটনা এড়াতে ফ্লাইট বাতিল, রুট বদল, আকস্মিক ডাইভারশন সব মিলিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে। যদিও আইএমডি জানিয়েছে, ছাইমেঘ উচ্চস্তরে থাকায় ভূমিস্তরে তেমন দূষণের আশঙ্কা নেই, তবে আকাশ মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকবে। বিপরীতে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ইতিমধ্যেই 'খুবই খারাপ' শ্রেণির দিকে এগনো এনসিআরের বায়ুগুণ আরও খারাপ হতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ছাইমেঘ প্রথম ভারতের আকাশে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লী এনসিআর ও পাঞ্জাবের ওপর দিয়ে সরে যেতে থাকে দ্রুত বেগে।
ইন্ডিগো অন্তত ৬ টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আকাশা এয়ার ২৪ ও ২৫ নভেম্বর জেড্ডাহ, কুয়েত ও আবুধাবি রুটে পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। আরও বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুট বদলে অন্যত্র ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।
ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ASHTAM জারি করে, যা আগ্নেয়গিরির ছাই সংক্রান্ত বিশেষ সতর্কতা। বিমান সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট উচ্চতা এড়িয়ে চলার জন্য।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করে রুট বদল শুরু করলেও, ভারতীয় এয়ারলাইন্সদের সে সুবিধা নেই। ফলে আরও বেশি বাতিল ও বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
আইএমডি প্রধান এম মহাপাত্র জানিয়েছেন, ছাইমেঘ ১০ থেকে ১৫ কিমি উচ্চতায় অবস্থান করায় ভূমিস্তরে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে আকাশ পরিষ্কার হবে ও রাতের তাপমাত্রা খানিক বাড়তে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সুনীল ডাহিয়া জানিয়েছেন, এনসিআরের ইতিমধ্যেই খারাপ একিউআই আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিতে পারে আগ্নেয়গিরির ছাই।
সোমবার বিকেল ৪টায় দিল্লির একিউআই ছিল ৩৮২, যা গুরুতর অবস্থার দোরগোড়ায়। নয়ডায় ৩৯৭ ও গাজিয়াবাদে ৩৯৬ ছুঁয়ে যায়।
এই মেঘে রয়েছে ক্ষুদ্র কণা, সালফার ডাই অক্সাইড, পাথর ও কাচের সূক্ষ্ম টুকরো যা বিমানের ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ডিজিসিএ সব বিমানবন্দরকে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রন এলাকা নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলেছে। সামান্য ছাই পড়লেই অপারেশন থামিয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির এই বিরল অগ্ন্যুৎপাতে ১৪ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত ছাই ছিটকে উঠেছে। যদিও অগ্ন্যুৎপাত এখন বন্ধ, বিশাল ছাইমেঘ এখনও ভারত অভিমুখে ভেসে আসছে বলে জানিয়েছে টুলুজ ভিএএসি।












Click it and Unblock the Notifications