Balochistan Crisis: বালুচিস্তান কোন সমস্যায় জর্জরিত? কেন পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেতে চান বালোচরা?
বালোচের উগ্রপন্থীরা যাত্রীবাহী ট্রেন অপহরণ করে বালুচিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় আটকে রেখেছে। সেই ট্রেনে ছিলেন সাড়ে চারশো জনের বেশি যাত্রী। যার মধ্যে মহিলা এবং শিশুরাও রয়েছে। বালোচ লিবারেশন আর্মি এই অপহরণের দায় স্বীকার করেছে। বহু সেনার প্রাণ গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে।
যদি অপহৃতদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে তার ফলাফল মারাত্মক হবে বলে আগেই হুমকি দিয়ে রেখেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে সিবি প্রদেশে। তারপর থেকেই গোটা বালুচিস্তান জুড়ে তো বটেই, পাকিস্তান জুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বালোচের এই বিদ্রোহীরা পাকিস্তানি সেনার ওপরে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় যেখানে চিনা ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন, সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। কারণ তাদের দাবি, বালুচিস্তানে বাইরের লোকজন এসে সেখানকার সম্পদ তুলে নিয়ে গিয়ে নিজেরা সমৃদ্ধ হচ্ছে। অথচ তারা বঞ্চিতই থাকছেন।
নতুন রাষ্ট্র চান বালোচরা
বালোচের এই বিদ্রোহীরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেছেন। তাদের দাবি, পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্র সামগ্রিকভাবে বালুচিস্তানের নাগরিকদের উপরে বহু সময়ে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। বারবার তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে, সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। আর সেজন্যই তাদের পাল্টা হামলা চালাতে হয়েছে।
পাকিস্তানের এই অংশে অর্থাৎ বালুচিস্তানে বিশেষ করে, আচমকা নাগরিকদের গায়েব হয়ে যাওয়ার হাজার হাজার অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বালুচিস্তানে গায়েব হয়ে যাওয়ার এরকম ২৭৫২টি ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ভয়েস ফর বালোচ মিসিং পারসন্স-এর দাবি, ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫২২৮ জন বালোচ নিবাসী গায়েব হয়ে গিয়েছেন।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা হল বালুচিস্তান। পাকিস্তানের মোট এলাকার ৪৪% এখানে রয়েছে। অথচ পাকিস্তানের মোট ২৪ কোটি জনসংখ্যার মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এই বালুচিস্তানে থাকেন। বালুচিস্তানের সীমান্তে রয়েছে ইরান এবং আফগানিস্তানের মতো দেশ।
বারবার বালোচদের অবহেলা
বালুচিস্তানে প্রাকৃতিক সম্পদ ভরপুর একটি এলাকা। এখানকার প্রাকৃতিক গ্যাস, বিভিন্ন খনিজ চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে পাকিস্তানের থেকেও বেশি চিনের নজর রয়েছে। এখানে ওমান উপসাগরের কাছে গভীর সমুদ্র বন্দর রয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে এই এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং চিন বরাবর এই এলাকাকে বকলমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া প্রয়াস চালিয়েছে।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তান বালুচিস্তান কার্যত দখল করার পর থেকে নানা সময়ে এখানে পাকিস্তান বিরোধিতা মাথাচাড়া দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে এই এলাকাকে অবহেলা, অর্থনৈতিক দিক থেকে এখান থেকে সবকিছু লুটে নেওয়ার চেষ্টা এবং সর্বোপরি সাংস্কৃতিকভাবে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বালুচিস্তানের মানুষ বারবার গর্জে উঠেছেন।
প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, তামা এবং সোনার ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ এই বালুচিস্তান। পাকিস্তানি সরকারের তথ্যই বলছে, সেদেশের অর্থনীতিতে বালুচিস্তানকে বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এখানে মানুষের গড় আয় পাকিস্তানের জাতীয় গড় আয়ের থেকে অনেকটাই কম। অর্থাৎ সবদিক থেকেই বালুচিস্তানকে চিরকাল বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
বালোচদের বঞ্চনার প্রতিবাদ
গত কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তান রাজনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমস্যাতেও জর্জরিত। সেদেশে সেনার ওপরে বারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। কখনো বালোচ লিবারেশন আর্মি, কখনও ইউনাইটেড বালোচ আর্মি, কখনও তালিবান অথবা কখনও অন্য জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
বালুচিস্তানের বিদ্রোহীরা আরও ক্ষেপে গিয়েছেন, কারণ তাদের অধিকার রক্ষার এবং অধিকার আদায়ে তৈরি কমিটিকে বারবার পুলিশের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে যখন তারা তাদের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছেন। এর পাশাপাশি তাদের এলাকায় যেভাবে প্রকল্পের নামে চিনের দাপট বেড়েছে, তা নিয়েও অখুশি বালুচিস্তানের মানুষ।
চিনের অত্যাচার
বালোচদের অভিযোগ, মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে গোটা প্রদেশ জুড়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে চিন এবং পাকিস্তান দুই দেশের উপরেই মারাত্মক ক্ষুব্ধ বালুচিস্তানের মানুষ। কারণ চিনের অর্থনৈতিক করিডোরে নিজেদের এলাকার কোনও উন্নতি দেখতে পারছেন না বালোচরা।
বারবার বালুচিস্তান প্রদেশের মানুষ অভিযোগ করেছেন তাদের এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ কোনওরকম ক্ষতিপূরণ না দিয়েই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বালুচিস্তানের মানুষকে তাদের জীবন উন্নত করার কোনও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। চিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে পাকিস্তানের তরফে এখানে যে প্রকল্পগুলি করা হয়েছে তার ফলে আদতে সেই এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। প্রদেশের মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। খননের ফলে বন সম্পদ ধ্বংস হয়েছে, চাষের জমি নষ্ট হয়েছে, জল দূষিত হয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে বালুচিস্তানের অধিবাসীদের কোনও লাভ হয়নি। যে অবস্থা থেকে তারা এখন মুক্তি পেতে চাইছেন।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়












Click it and Unblock the Notifications