কাঁপছে গোটা বিশ্ব! কিন্তু কারা এই তালিবান? আফগানিস্তানের করুণ পরিস্থিতির নেপথ্যে আমেরিকার হাত?
কাঁপছে গোটা বিশ্ব! কিন্তু কারা এই তালিবান? আফগানিস্তানের করুণ পরিস্থিতির নেপথ্যে আমেরিকার হাত?
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর থেকেই আফগানিস্তানে কার্যত রক্তের হোলিতে মেতেছে তালিবানেরা। গত ৬ দিনে দখল করে নিয়েছে আফগানিস্তানের ১০ টি প্রাদেশিক রাজধানী। অন্যদিকে আগ্রাসী তালিবানদের কাছে ইতিমধ্যেই মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি। কিন্তু কারা এই তালিবান যাদের দাপটে আতঙ্ক গোটা বিশ্বজুড়ে ?

পাঁচ বছর শাসন ক্ষমতাতেও থেকেছে তালিবানেরা
ইতিহাস বলছে, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে দীর্ঘ এক দশকের সোভিয়েত দখলদারির অবসানের পর সেনা প্রত্যাহারকালে গোলোযোগপূর্ণ বিশৃঙ্খল সময়ে জন্ম হয় মুজাহিদ গোষ্ঠী তালিবানের। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত, পাঁচ বছর আফগানিস্তানের শাসনভারও ছিল এই উগ্রপন্থী ইসলামী সংগঠনের হাতে। এদিকে তালিবান শব্দটি তালেব শব্দের বহুবচন যার অর্থ জ্ঞান তলবকারী বা ছাত্র। এদিকে ইতিহাস বলছে তালিবান উত্থানের পিছনে বড় হাত রয়েছে খোদ আমেরিকারও।য যদিও এখন এই তালিবানেরাই আমেরিকার কাছে বুম্যেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে।

তালিবান উত্থানের পিছনে আমেরিকার হাত ?
এদিকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সম্পূর্ণ রূপে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে জো বাইডেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছেড়ে ইতিমধ্যেই বাড়ি ফেরারাও তোড়জোড় শুরু করেছে মার্কিন ন্যাটো বাহিনী। আর তাতেই বিজয়োল্লাসে মেতেছে তালিবানেরা। এদিকে ইতিহাস বলছে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই'র ব্যাপক সাহায্য ও সমর্থন পেয়েছিল অতীতে বিভিন্ন আফগান মুজাহিদ গোষ্ঠী। সেই তালিকায় শুরুতেই ছিল তালিবানেরা।

১৯৯২ সাল গৃহযুদ্ধের সময় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মন জেতে তালিবানেরা
কিন্তু সোভিয়েত-পরবর্তী প্রাথমিক যুগে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ গুলোর সংঘর্ষে চারদিকে ব্যাপক নৈরাজ্য বিরাজ করে। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে প্রায় ৩৫ হাজার আফগান জনগণ নিহত হয়। আর সেই অস্থির সময়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মাঠে নামে তালিবানেরা। দক্ষিণ-পশ্চিম আফগানিস্তান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে গোটা দেশেই তাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে আফগানিস্তানের কান্দাহারে প্রথম তাদের অপরাধ প্রতিরোধ কমিটি কাজ শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে আফগান জনগনের মনও জিতে নেয় এই উগ্রপন্থী ইসলামী শক্তি।

১৯৯৬ সালে বুরহানুদ্দিন রব্বানির সরকারকে ফেলে দেয় তালিবানেরা
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রব্বানির সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী কাবুলের দখল নেয় তালিবান গোষ্ঠী। আফগানিস্তানের ৯০ শতাংশ জায়গা তাদের দখলে এলে তৈরি হয় প্রথম তালিবান সরকার। বর্তমানে একই কায়দায় সেদেশে আশরফ গনি সরকারকে ফেলতে উদ্ধত হয়েছে তালিবানেরা। প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি পদ ছাড়লে তবেই তারা অস্ত্র ফেলে শান্তির রাস্তায় হাঁটবে বলে সমঝোতা বার্তাও দিয়ে রেখেছে।












Click it and Unblock the Notifications