রুদ্ধশ্বাস সংঘাতে তালিবানি পতাকা দাপটে উড়ছে আফগানিস্তানে, প্রতিরোধ গড়ার একমাত্র 'আশা' কোন নেতারা
মার্কিন সেনা বাহিনী আফগানিস্তানের মাটি ধীরে ধীরে ছাড়তেই সেখানে দাপটে ধুলো উড়িয়ে বিজয় কেতন ওড়াচ্ছে তালিবান। যত দিন গড়াচ্ছে সেখানে একের পর এক এলাকায় তালিবানের শাসন কায়েম হচ্ছে। এলাকা দখ করে চলেছে তালিবান। ঘটনা ঘিরে ত্রস্ত আফগান সরকার। অসহায় আত্মসমর্পণ করে চলেছে আফগান ন্যাশনাল আর্মি। যাদের ওপর ভরসা রেখেছিল মার্কিন বাইডেন সরকার। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের বুকে যুদ্ধচিত্র একনজরে দেখা যাক।

আফগানিস্তানের ঘরোয়া রাজনীতির চিত্র ও বাদাখশান
৪২১ টি আফগান জেলার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ আপাতত তালিবানের দখলে । এবার তারা ইসলাম কোয়ালা সীমান্ত দখল করতে চলেছে। ইরান, উজবেকিস্তানস, তাজাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত আফগানিস্তানের একাধিক এলাকা তালিবানের দখলে । তবে তারা দখল নিতে পারেনি বাদাখশান প্রভিন্সে। বহুদিন ধরে মার্কিন সেনার নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক এলাকার মধ্যে বাদাখশান একটি এলাকা। যার শাসন এখনও আফগান সরকারের হাতে।

উপজাতি রাজনীতি ও আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের বুকে শুধু যে সন্ত্রাসের কাহিনি শোনা গিয়েছে তা নয়। এই সন্ত্রাসের গোষ্ঠী তৈরির নেপথ্যে রয়েছে সেখানে বহু উপজাতি বনাম উপজাতির লড়াই। উজবেক, হাজারা, তাজিক ও পশতুন উপজাতির লড়াই কার্যত আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের বড় কারণ। যাকে সময় সময়ে উস্কানি দিয়েছে পাকিস্তান, রাশিয়া, আমেরিকার মতো নানান দেশ। জানা যায়, বড় অংশের পশতুনরা তালিবানে যোগ দিয়েছে। এদিকে, সেদেশের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি অকজন পাশতুন আবার আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পথে যাওয়া ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন হাইকাউন্সিলের আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ একজন তাজিক। ফলে জাতিগত বিভেদই আফগানিস্তানের বুকে বড় সংকট যে ডেকে এনেছে, তা বলা বাহুল্য।

মহম্মদ আটা নূর থেকে গুলবুদ্দিন হেকময়তাররা কেন প্রাসঙ্গিক?
শোনা যায়, আফগানিস্তানের বুকে সোভিয়েত যুদ্ধের আমল থেকে ফের প্রকট হন গুলবুদ্দিন হেকময়তার। এর আগে কঠোর ইসলামি নেতা হিসাবে তার পরিচিতি ছিল। মাধের সময় তিনি গা ঢাকা দেন পাকিস্তানে। পরে শোনা যায়, তাঁকে সিআইএ থেকে ফান্ড করা হচ্ছে। আপাতত তালিবানের সঙ্গে লড়াইয়ে এই গুলবুদ্দিন হেকময়তার এক অন্যতম আশা। অন্যদিকে, উত্তর আফগানিস্তানে কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মহম্মদ আটা নূরের। আফগানিস্তানের পোক্ত পার্টি জামাত এ ইসলামির নেতা তিনি। জাতিতে তিনি তাজিক ফলে পশতুন নিয়ন্ত্রিত তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়তে তিনি পিছপা নন। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনার চলে যাওয়ার চরম বিরোধিতা করেন নূর। ফলে তিনি , এই আফগানিস্তানের তালিবান যুদ্ধের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন।

আশা জাগাচ্ছেন আর কোন নেতারা!
উজবেক গোষ্ঠীর তরফে আফগানিস্তানের বুকে অত্যন্ত নামী ব্যক্তিত্ব দস্তুন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও, তিনি তালিবানের বিরুদ্ধে প্রধান মুখ। লায়ন অফ হেরাত নামে পরিচিত মহম্মদ ইসমাইল খান মার্কিন সমর্থনকারী আফগান নেতা হিসাবে পরিচিত। আবদুল খানি আলিপুরও এমন একজন নাম আফগানিস্তানের বুকে। তাঁর সঙ্গে রয়েছে হাজারা উপজাতির লোকজন। এছাড়াও সেখানে আরও একটি নাম আব্দুল রসুল সইফ।












Click it and Unblock the Notifications