দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কি পদক্ষেপ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ

ঢাকায় দুই বাসের মাঝখানে এক ছাত্রের হাত কাটা পড়ার ছবি প্রচারিত হওয়ার পরে আবার প্রশ্ন উঠছে, কর্তৃপক্ষ কি করছে পরিবহনের দুরবস্থা কাটাতে?

যাত্রীরা বাসে ওঠার চেষ্টা করছে।
BBC
যাত্রীরা বাসে ওঠার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও কর্তৃপক্ষ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা পালন করছে না।

ঢাকায় দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ভুক্তভোগী রাজীবের কাটা হাতের ছবিটিকে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহনের অবস্থার একটি প্রতীকী ছবি বলা যায়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৭ সালে আগের বছরের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ শতাংশ প্রাণহানি বেড়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই নামে একটি সংগঠনের তথ্যানুসারে ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ৫ হাজার ৬৪৫ জনের। সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৬ সালের চেয়ে দেড় হাজার মৃত্যু বেড়েছে ২০১৭ সালে।

কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ কি পদক্ষেপ নিচ্ছে?

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব আব্দুল মালেক বলেন, প্রাথমিকভাবে সড়ক পরিবহন আইনে পরিবর্তন আনার কাজ করছেন তারা।

মি.মালেক বলেন, "নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে যে কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া উচিত।"

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছিন্ন হাতের যে ছবি দেখে আঁতকে উঠেছেন ঢাকাবাসী

বিচ্ছিন্ন হাত: লাইফ সাপোর্টে সেই রাজীব হোসেন

বেপরোয়া মোটরযান চালিয়ে মানুষ হত্যা করলে কারাদন্ডের বিধান প্রস্তাবিত আইনে ১০ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আইন পরিবর্তন ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

তবে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদেরও সচেতন হওয়াও জরুরী বলে মনে করেন মি.মালেক।

"অনেক সময় দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশ রাস্তা পার হতে বাধা দিলেও জোর করে বাধা না মেনেই মানুষ নিয়ম ভঙ্গ করে রাস্তা পার হয়। নিজের শারীরিক সক্ষমতা বা গাড়ির গতি বিচার না করেই মানুষ রাস্তা পার হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে।"

"যে দুর্ঘটনায় যাত্রীর হাত কাটা গেলো, স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলে তার হাত গাড়ির বাইরে থাকার কথা না।"

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন মনে করেন, আইনে পরিবর্তন এনে বা সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাঁর মতে, ঢাকা মহানগরের রাস্তাঘাটে মূল সমস্যা অব্যবস্থাপনা।

মি. হোসেন বলেন, অনিয়মের সংস্কৃতি বিরাজমান থাকায় এখানে করায় গাড়ির চালক,যাত্রী, বা পথচারী কেউই এখানে নিয়ম মেনে চলতে চায় না।

মি. হোসেন বলেন, "একজন মানুষ রাস্তায় নেমে যখন দেখবে যে রাস্তায় সবকিছু পদ্ধতিগতভাবে চলছে, তখন তিনিও নিয়ম মানার প্রতি উৎসুক হবে। বাস থামা, যাত্রী ওঠানো, রাস্তা পারাপার এমন সব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও কেউই নিয়ম মানে না এবং সেই নিয়মের বাস্তবায়নও নেই।"

মি. হোসেন বলেন, ঢাকা মহানগরের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের একটি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়শ অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনেরই এই দায়িত্ব নেয়া উচিত।

"ঢাকায় বাসের চলাচলের রুট পরিকল্পনামাফিক নয়। একইসাথে বাসগুলোর অধিকাংশই ফিটনেসবিহীন আর বাসচালকরাও যথেষ্ট দক্ষ না। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থা সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা থাকার কথা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে তার বিন্দুমাত্রও দেয়া হয়নি।"

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা মহানগরের ভেতরে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নগরের ভেতরে গণপরিবহন ব্যবস্থা পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। আর দুর্ঘটনা নিরসনে পরিবহন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

কোটা সংস্কার: বিভেদ দূর হলো মতিয়া চৌধুরীর উক্তিতে

মেয়েরা কেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে এতটা সম্পৃক্ত?

কোটা সংস্কার: আন্দোলনের নেপথ্যে কী ঘটছে

BBC
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+