তারেক রহমান ২.০, ভারত ও বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য কী বার্তা বহন করে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সময়ের 'ডার্ক প্রিন্স' এখন ক্ষমতার কেন্দ্রে। দীর্ঘ ১৭ বছরের লন্ডন নির্বাসন শেষে ফিরে এসে নির্বাচনে ঝড় তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান, যাকে ঘিরে নতুন করে হিসাব কষছে দিল্লি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই ভারত সরকারের তরফে অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে যায়। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও পরবর্তী টানাপোড়েনের পর দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক যখন তলানিতে ঠেকেছিল, তখন এই দ্রুত কূটনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করে ভারত নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়।

ক্ষমতায় এসেই তারেক 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির কথা বলেছেন, যা অনেকের মতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' ভাবনার অনুকরণ। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট "না দিল্লি, না পিন্ডি বাংলাদেশ আগে।" অর্থাৎ ভারত, চিন কিংবা পাকিস্তান কোনও শক্তির প্রতিই প্রকাশ্য ঝোঁক নয়, বরং সমদূরত্ব।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসন পাকিস্তান ও চিনের দিকে কিছুটা ঝুঁকেছিল এমন ধারণা দিল্লিতে ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তারেকের ভারসাম্যের বার্তা ভারতের কাছে স্বস্তির।
তবে বাস্তবতা দ্বিমুখী। একদিকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার সীমান্ত, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সব দিক থেকেই ভারত বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে ছাত্র আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া ও প্রত্যার্পণ ইস্যুতে ভারতের গড়িমসি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে ভারত বিরোধী মনোভাব বাড়িয়েছে।
নির্বাচনের আগে উগ্রপন্থী নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক জায়গায় হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রায় ৪৫ দিনে অন্তত ১৫ জন হিন্দুর প্রাণহানির খবর সামনে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে তারেকের বক্তব্য ছিল আপাত সংযত"ধর্ম ব্যক্তিগত, রাষ্ট্র সবার।" বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ হিন্দু। তাদের নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
তারেক ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও তিস্তা ও পদ্মার ন্যায্য জলবণ্টনকে 'জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন' বলে উল্লেখ করেছেন। তিস্তা নদী চুক্তি বহুদিন ধরেই ঝুলে আছে। একই সঙ্গে সীমান্তে গুলি ও মৃত্যুর ঘটনা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
পাঁচটি ভারতীয় রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সীমান্তরেখা এই প্রশ্নকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
তারেক রহমানের অতীতও কম বিতর্কিত নয়। বিএনপি শাসনকাল ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়ে খালেদা জিয়ার আমলে দিল্লি ও ঢাকা সম্পর্ক ছিল তিক্ত। সে সময় জামায়াত জোটসঙ্গী ছিল ও দিল্লির অভিযোগ ছিল উত্তর পূর্ব ভারতের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছিল।
ঢাকার 'হাওয়া ভবন' যা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে মাত্র ৬ কিমি দূরে ছিল এক অঘোষিত শক্তিকেন্দ্র। অভিযোগ, সেখান থেকেই নানান সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। ২০০৪ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্র পাচার মামলায়ও তারেকের নাম জড়ায় বলে ভারতের দাবি ছিল, যেখানে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম এর সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ ওঠে।
২০০৫ সালে এক মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় তাঁকে 'ডার্ক প্রিন্স' বলা হয়। পরে ২০০৮ সালে ঢাকা ট্রাইব্যুনের একাধিক প্রতিবেদনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে।
যদিও ২০২৪ এ হাসিনার পতনের পর সব মামলায় তিনি খালাস পান ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলাও তার মধ্যে ছিল।
দীর্ঘ নির্বাসনকালে দলকে ভেঙে পড়তে দেননি তারেক। অডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন। গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সময় যে জনসমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা প্রমাণ করে রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব অটুট ছিল।
এখন প্রশ্ন একটাই 'তারেক রহমান ২.০' কি সত্যিই অতীতের বিতর্ক ঝেড়ে ফেলে বাস্তববাদী, সংস্কারমুখী নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন? নাকি হাওয়া ভবনের পুরনো ছায়া আবারও ফিরে আসবে?
দিল্লি ও ঢাকা 'মৈত্রী এক্সপ্রেস' কি এবার মসৃণ পথে ছুটবে, নাকি ইতিহাসের ভার আবারও সম্পর্ককে জটিল করবে সেই উত্তর লুকিয়ে আগামী দিনের কূটনীতিতে।
-
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি












Click it and Unblock the Notifications