প্রকল্প বাস্তবায়নে এ, বি, সি ক্যাটাগরি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে বাংলাদেশে?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যেন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর প্রকল্পগুলোকে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়। কিন্তু এসব ক্যাটাগরি দিয়ে কী বোঝানো হচ্ছে?
বাংলাদেশে ব্যয়ের লাগাম টানতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে থাকা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোকে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বড় বড় প্রকল্পগুলোকে এই তিন ভাগে ভাগ করে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।"
তিনি জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বি ক্যাটাগরির বা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোয় মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। আর কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোয় আপাতত খরচ করা স্থগিত থাকবে।
কোন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্য পণ্যের দাম বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে গত কয়েক মাস ধরে ব্যয়ের লাগাম টানার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের সরকার। বিশ্ব বাজারে একদিকে যেমন জ্বালানি তেল, খাদ্যদ্রব্য, গ্যাসসহ কাঁচামালের দাম বেড়েছে, তেমনি ডলারের বিনিময় মূল্যও নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করছে।
এর আগেই সরকারি সব যানবাহন কেনা বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ, ভ্রমণ ব্যয়েও লাগাম টানা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য লোডশেডিং করা এবং ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রকল্প ব্যয় কমাতে চাইছে সরকার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্দেশ দিলেও মূলত জুলাই মাসের শুরু থেকেই ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটতে শুরু করে বাংলাদেশের অর্থ বিভাগ।
তেসরা জুলাই একটি পরিবর্তে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আপাতত কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থ ছাড় করা স্থগিত থাকবে। সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে যেসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সেখানেই উল্লেখ করা হয়, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীভুক্ত প্রকল্পগুলোকে এ/বি/সি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, "যাচাই-বাছাই করেই এসব প্রকল্প নেয়া হয়েছিল । কিন্তু সরাসরি উৎপাদনে সহায়ক নয় বা কর্মসংস্থানে সহায়ক নয়, এমন প্রকল্পগুলো যদি ছয়মাস পরে শুরু করা হয়, তাহলে তো কোন ক্ষতি নেই। অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়েও তো বিলম্ব হয়।"
''আমরা এখন চাচ্ছি, যেটা উৎপাদনে সহায়ক, কর্মসংস্থানে সহায়ক, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু যেসব প্রকল্প এরকম নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন একটু পিছিয়ে দিচ্ছি আমরা।''
''এর কারণ হলো, বাইরে (দেশের বাইরে) যে মূল্যস্ফীতি, সব জিনিসের দাম বেড়েছে, সেটা যেন আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশে বিদেশে পণ্য ক্রয় করতে হয়, সেই চাপটা যেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি,'' তিনি বলছেন।
এসব প্রকল্প স্থগিত করে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি আপাতত সাশ্রয় হবে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
এ, বি বা সি ক্যাটাগরি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকার বা 'ফাস্ট ট্র্যাক' প্রকল্পগুলো, যার মধ্যে আছে, খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি, উন্নয়ন বা বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। এর অনেকগুলো প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে সামনের বছর জুন মাসের মধ্যে।
এসব প্রকল্পের বেশ কয়েকটি বৈদেশিক সহায়তায় হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন, কর্ণফুলীর নদীর নীচের টানেলসহ সব মিলিয়ে এ ক্যাটাগরিতে প্রায় সাতশ' প্রকল্প রয়েছে।
যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে কমপক্ষে দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগবে, যেসব প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ এর মধ্যেই ব্যয় করা হয়ে গেছে, সেসব প্রকল্প বি ক্যাটাগরিতে ধরা হয়েছে। এসব খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।
এসব প্রকল্পকে মধ্যম মানের গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। এরকম প্রকল্পের মধ্যে মুদ্রণ, কম্পিউটার ক্রয়, কয়েকটি রেললাইন ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, জাতীয় সড়ক বর্ধিতকরণ ও সংস্কার ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে এরকম পাঁচ শতাধিক প্রকল্প রয়েছে।
অন্যদিকে যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুর দিকে রয়েছে, এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে অথবা কিছুদিন পরে বাস্তবায়ন করলেও জনসেবায়, উৎপাদনে বা অর্থনীতিতে কোন প্রভাব পড়বে না, সেগুলোকে ধরা হয়েছে সি ক্যাটাগরিতে।
এই খাতে অফিস ভবন নির্মাণ বা বর্ধিতকরণ, প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প, আবাসিক ভবন নির্মাণ বা সংস্কার, সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি প্রকল্প রয়েছে। এরকম প্রায় দেড়শ প্রকল্প রয়েছে এই বছরের এডিপিতে।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
মিয়ানমারে চারজন গণতন্ত্রপন্থীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সেনাবাহিনী
কোথায় কিভাবে ব্যয় হবে পদ্মা সেতুর টোলের টাকা?
হাকালুকি হাওরের টর্নেডো নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
বাংলাদেশে সার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিতে কী প্রভাব পড়বে














Click it and Unblock the Notifications