করোনায় রক্ষে নেই, ঘাড়ে চাপল লাসা জ্বর! কি এই ভাইরাস, উপসর্গ কি, সব জেনে নিন এক নজরে
করোনায় রক্ষে নেই, ঘাড়ে চাপল লাসা জ্বর! কি এই ভাইরাস, উপসর্গ কি, সব জেনে নিন এক নজরে
বিশ্ববাসী যখন করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করছে, বিশ্বের কিছু দেশ কম গুরুতর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে লড়ছে, ঠিক সেই সময় আরও এক আতঙ্ক মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। ব্রিটেনের এক ব্যক্তি লাসা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ২০০৯ সাল থেকে তিনটে লাসা জ্বরের কেস এখানে দেখা গিয়েছে। লন্ডনের উত্তরের বেডফোর্ডশায়ারের এখ হাসপাতালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব ইংল্যান্ডের একই পরিবারের তিনজন এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকায় গিয়েছিলেন।

উত্তর নাইজেরিয়ায় প্রথম সনাক্ত
মূলত ইঁদুর বাহিত ভাইরাসের ফলে হচ্ছে লাসা জ্বর। ইবোলা ও মার্বাগ ভাইরাস পরিবারেরই এই লাসা জ্বর। তবে তা কম মারাত্মক। ১৯৬৯ সালে উত্তর নাইজেরিয়ার লাসা শহরে প্রথম এই রোগ সনাক্ত হওয়ার কারণে শহরের নামেই এই জ্বরের নাম রাখা হয়।

লাসা জ্বর আসলে কী
সিডিসির মতে, লাসা জ্বর পশ্চিম আফ্রিকাতে সনাক্ত হয় এবং প্রথম দেখা যায় ১৯৬৯ সালে নাইজেরিয়ায় লাসাতে। এই জ্বর ইঁদুর থেকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাথমিকভাবে এই জ্বর দেখা গিয়েছে বেনিন, ঘানা, গিনি, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, টোগো এবং নাইজেরিয়া সহ পশ্চিম আফ্রিকাতে। তবে তা এখানে এন্ডেমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের কথায়, এই ভাইরাস ইঁদুর বাহিত। লাসায় আক্রান্ত কোনও ইঁদুরের মূত্র বা মল কোনও খাবার জিনিস বা বাড়িতে ব্যবহৃত জিনিসের সঙ্গে মিশলে এবং তা ব্যবহার করা হলে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কেউ যদি আসে তবে সেও আক্রান্ত হতে পারে। সোমবার নাইজেরিয়ার এক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই দেশে এ বছরে লাসা জ্বরে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের।

উপসর্গ কী
হালকা জ্বর, মাথা ব্যাথা, দুর্বলতা, বমিভাব সহ হালকা উপসর্গ এই রোগের। তবে গুরুতর উপসর্গ হিসাবে রক্তপাত, শ্বাস নিতে সমস্যা, বমি, মুখ ফুলে যাও, বুক ও পিঠ এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ১-৩ সপ্তাহ মতো এই ভাইরাসের উপসর্গ থাকে।

কতটা মারাত্মক এই ভাইরাস
গুরুতর অসুস্থতা এই ভাইরাসে দেখা দিতে পারে, তবে অধিকাংশ মানুষই সুস্থ হয়ে ওঠেন এই রোগে। হু-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই জ্বরে মৃত্যুর হার এখনও পর্যন্ত ১ শতাংশ এবং হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার ১৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ঝুঁকি কতটা এই ভাইরাসে
বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই ভাইরাসের সংক্রমণ যদি তাড়াতাড়ি চিহ্নিত করা যায় সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসাও সম্ভব হবে। তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে পাঁচ জন আক্রান্তের মধ্যে একজন লাসা আক্রান্তের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন কিডনি, লিভারের ক্ষতি করে এই ভাইরাস।

কীভাবে এই ভাইরাস থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবেন
সব থেকে ভালো উপায় হল ইঁদুরের সংস্পর্শ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা। যতসম্ভব পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, বিশেষ করে গৃহস্থলীর সামগ্রির প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়া উচিত। যদি বাড়িতে খুব ইঁদুরের উৎপাত হয় সে ক্ষেত্রে তার প্রতিরোধ মূলক ভাবে ব্যবস্থা করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications