অপেক্ষা অনুমোদনের, কোভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায় ট্রায়াল তথ্য দেখে সন্তুষ্ট হু
কোভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায় ট্রায়াল তথ্য দেখে সন্তুষ্ট হু
ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনের প্রশংসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বৃহস্পতিবারই হু–এর প্রধান বিজ্ঞানী ডাঃ সৌম্য স্বামীনাথন জানিয়েছেন যে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনের তথ্য দেখে ভালোই মনে হচ্ছে। কোভ্যাকসিন এতদিন হু–এর অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল, এ প্রসঙ্গে স্বামীনাথন জানিয়েছেন যে ২৩ জুন কোভ্যাকসিন নিয়ে বৈঠক হয়েছে এবং তথ্যের প্যাকেটগুলি একত্রিত করা হয়েছে।

কোভ্যাকসিনের তথ্য দেখে খুশি হু
এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাতকারে স্বামীনাথন জানিয়েছেন যে কোভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের তথ্য দেখে ভালোই মনে হয়েছে, তারা ভ্যারিয়ান্টের ওপরও নজর রেখেছিল। বিজ্ঞানী বলেন, 'ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ কার্যকারিতা বেশ উচ্চ। তবে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কম হলেও এখনও সেটা ভালোর দিকে রয়েছে।' তিনি এও জানিয়েছেন যে ভ্যাকসিনের সুরক্ষার বিষয়টি হু-এর মানদণ্ডকে পূরণ করেছে। তবে তিনি এও বলেন, 'জরুরি ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে এমন ভ্যাকসিনের ওপর আমাদের নজর রয়েছে। আমরা এখনও তথ্য সংগ্রহ করে চলেছি।'

অন্যান্য দেশের থেকে শিক্ষা নিতে হবে ভারতকে
স্বামীনাথন জানিয়েছেন যে বিশ্বের অধিকাংশ অংশে, আমেরিকা বাদে, কোভিড-১৯ কেসের বাড়বাড়ন্ত দেখা গিয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় কোনও হ্রাস দেখা যায়নি। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতে কমপক্ষে ৬০-৭০ শতাংশ মানুষকে প্রাথমিক টিকাকরণ করাতে হবে। তিনি এও জানিয়েছেন যে ব্রিটেনের মতো দেশগুলির থেকে ভারতের অনুপ্রাণিত হওয়া দরকার এবং সেই হিসাবে টিকাকরণের পরিকল্পনা করতে হবে ভারতকে এবং অন্যান্য দেশগুলির থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

ডেল্টা প্লাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ
আফ্রিকায় ক্রমশঃ বাড়ছে মৃত্যু। স্বামীনাথন এই বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসাবে জানিয়েছেন সার্স-কোভ-২-এর ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট সংক্রমণ, যা প্রথম ভারতে সনাক্ত হয়। তিনি বিশদে বলতে গিয়ে জানান যে প্রকৃত ভাইরাস একসঙ্গে তিনজনকে সংক্রমিত করতে পারে কিন্তু ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট একসঙ্গে ৬-৮ জনকে সংক্রমিত করে। স্বামীনাথনের মতে সামাজিক মেলামেশার বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য সতর্কতার শিথিলতা বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর পেছনে সমানভাবে দায়ী। এছাড়াও টিকাকরণের নিম্ন হারের জন্য অনেকেই এই মারণ ভাইরাসে প্রাণ হারাচ্ছেন।

ভাইরাস মিউট্যান্টের কেস বৃদ্ধি
হু-এর মুখ্য বিজ্ঞানী এও জানিয়েছেন যে বিশ্বজুড়ে ফের ভাইরাস মিউট্যান্টের কেস বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান মিউট্যান্টেও ভ্যারিয়ান্ট দেখা গিয়েছে। স্বামীনাথন জানিয়েছেন যে এই ভ্যারিয়ান্টগুলি নিয়ে আরও বেশি করে তথ্য ও প্রমাণ জোগাড় করতে হবে। যার জন্য বিশ্বজুড়ে সিকোয়েন্সিং ও গবেষণার সহযোগিতা প্রয়োজন। সামাজিক দুরত্ব বজায় ও অনবরত মাস্ক পরা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বামীনাথন জানান যদি ৭০ শতাংশ জনসংখ্যার টিকাকরণ করা হয়ে গিয়ে থাকে, তাও ৩০ শতাংশ জনসংখ্যা টিকাকরণ থেকে দূরে রয়েছেন, আর মহামারির এই পর্যায়ে এসে শুধুমাত্র টিকাকরণ যথেষ্ট নয়। সরকারকে টেস্ট ও ট্র্যাকিং ক্রমাগত করে যেতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications