বাংলাদেশে ফের হিংসা, গার্মেন্টস কারখানায় সহকর্মীর গুলিতে হিন্দু ব্যক্তি বজেন্দ্র বিশ্বাস নিহত
বাংলাদেশে ফের হিংসার ছায়া। ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানার ভেতর গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন এক হিন্দু আনসার সদস্য। মৃতের নাম বজেন্দ্র বিশ্বাস (৪২)। তিনি কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা অঞ্চলের ওই গার্মেন্টস কারখানায় প্রায় ২০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন ছিলেন। ঘটনার সময় বজেন্দ্র বিশ্বাস সহকর্মী নোমান মিয়ার সঙ্গে কারখানার ভেতর বসেছিলেন। হঠাৎই নোমানের হাতে থাকা শটগান থেকে গুলি বেরিয়ে যায়। গুলিটি বজেন্দ্র বিশ্বাসের বাঁ পায়ে লাগে, মুহূর্তের মধ্যেই প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নোমান মিয়া (২২) পেশায় তিনিও একজন আনসার সদস্য। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর এলাকার বালুটুরি বাজারের বাসিন্দা ও লুৎফুর রহমানের পুত্র। ঘটনার পরপরই তাঁকে আটক করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃতদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তিনি আরও জানান, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আনসার বাহিনীর সদস্যরা সাধারণত কারখানা, ব্যাংক, নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকেন ও সংবেদনশীল এলাকায় তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আরও উদ্বেগজনক কারণ গত ১০ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে তিনজন হিন্দু নাগরিক নিহত হলেন। এর আগে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা দেশজুড়ে অশান্তির জন্ম দেয়। কয়েকদিন আগেই ঢাকায় গুলিতে প্রাণ যায় অমৃত মণ্ডলের, যাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ ছিল।
ক্রমাগত এই ঘটনাগুলি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা, খুন ও ঘরবাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।












Click it and Unblock the Notifications