লকডাউন শেষ হতেই হিংসা ছড়াচ্ছে হুবেইতে! পালাচ্ছেন উহানের বাসিন্দারা
করোনা জ্বরে জর্জরিত গোটা বিশ্ব। এই মহামারীর উৎস হিসেবে পরিচিত চিনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান। গত বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর জানুয়ারিতে লকডাইন করা হয় শহরটি। এর সুফলও পেয়েছে তারা। এখন সেখানে ভাইরাস সংক্রমণ বলতে গেলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। আর এর জেরে সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চিন।

লকডাইন তুলে নিতেই হুবেই থেকে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা
তবে লকডাইন তুলে নিতেই হুবেই থেকে পালাতে শুরু করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। আর এর জেরে সেখানে রাস্তায় হিংসার চিত্র উঠে এসেছে। রাস্তায় রাস্তায় সেখানে মানুষের ভিড়। সবাই হুবেই থেকে বেরিয়ে চিনের অন্য প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে। আর এর জেরে অরাজকতা দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনতে ব্যর্থ হচ্ছে চিনের প্রশাসন।

চিনে বিদেশফেরত আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে
পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় এখন দেশে দেশে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাসীর জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্যোগ। তা ছাড়া চিনে বিদেশফেরত আক্রান্তদের সংখ্যাও গতকাল পর্যন্ত বেশ বেড়েছে। তবে তারা এমন রোগীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় চিনে গত কয়েকদিনে বেশ কিছু কারাখান পুরোদমে চালু হয়েছে।

হুবেই থেকে লকডাউন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
চিনের হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কমিশন গত মঙ্গলবার এক ঘোষণায় উহানের লকডাউন তুলে দেওয়ার কথা বলে। তবে শুধু উহান বাদে আজ থেকেই হুবেই প্রদেশে প্রবেশ ও প্রদেশটি থেকে বের হওয়ার ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হচ্ছে। আর ৮ এপ্রিল থেকে উহানের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর স্বাস্থ্য কোডের ওপর ভিত্তি করে লোকজন শহরটি ছাড়ার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছে কমিশন। তবে তার আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

হুবেইতে ৩ হাজারেরও বেশি মারা যায় করোনায়
ডিসেম্বরের একেবারে শেষ দিকে এই উহান শহরেই প্রথম নতুন ধরনের এ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। কিছুদিনের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ দ্রুত হুবেই প্রদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ প্রদেশটি লকাডাউন করে দিয়ে কোটি কোটি বাসিন্দাকে ঘরে অবস্থান করতে বাধ্য করে। এর আড়াই মাস পর সোমবার দিন শেষে হুবেইর স্বাস্থ্য কমিশন প্রদেশটিতে মোট ৬৭ হাজার ৮০১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও তিন হাজার ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু প্রদেশটিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications