মাদুরোকে গ্রেফতার করে 'হ্যাপি নিউ ইয়ার' ধ্বনি! সেই মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, বিতর্ক বিশ্ব জুড়ে
নিউইয়র্কের জেলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। গতকাল ভোররাতে বিশেষ বাহিনীর হঠাৎ হানায় দেশ থেকেই তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেই সঙ্গে কারাকাস এবং আশপাশের একাধিক এলাকায় বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এই অভিযানের পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, ভেনেজুয়েলা ধীরে ধীরে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আসছে।

মার্কিন সরকারি বিমানে মাদুরোকে প্রথমে একটি সামরিক ঘাঁটিতে নামানো হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে নিউইয়র্কে নিয়ে গিয়ে মাদক পাচার এবং অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় আদালতে তোলার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়। হোয়াইট হাউস এক্স (X)-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে হাতকড়া পরা মাদুরোকে মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট দফতরের ভিতর দিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। সেই ভিডিওতে তাঁকে ইংরেজিতে "হ্যাপি নিউ ইয়ার" বলতে শোনা যাচ্ছে।
#BREAKING: Footage released shows former Venezuelan President Nicolás Maduro arriving tonight at New York Stewart International Airport (Stewart Air National Guard Base) after his capture in a U.S. military operation.
— Breaking News (@TheNewsTrending) January 4, 2026
Maduro, visibly restrained and escorted by federal agents,… https://t.co/Ipz03a63K1 pic.twitter.com/qKohXBxzPe
অভিযান সফল হলেও এর পর কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব সামলানোর জন্য তিনি নিজের মন্ত্রিসভার কয়েকজনকে দায়িত্ব দিচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। আবার প্রয়োজন পড়লে মার্কিন সেনা নামানোর কথাও উড়িয়ে দেননি তিনি। তবে বিরোধীদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনায় তিনি খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। বরং তিনি মাদুরোর উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodríguez)-এর সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই পুরো ঘটনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন যে, মার্কিন তেল সংস্থাগুলি সেখানে বিনিয়োগ করবে এবং তেল রপ্তানিও বাড়ানো হবে।
অন্যদিকে আবার, মার্কিন সমর্থিত বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো (María Corina Machado) সমাজ মাধ্যমে 'স্বাধীনতার সময় এসেছে' বলে দাবি করেছেন। তিনি বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস (Edmundo Gonzalez)-কে প্রেসিডেন্ট করার আহ্বানও জানান। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন যে, দেশে মাচাদোর তেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা নেই। রদ্রিগেজ অবশ্য মাদুরোর মুক্তির দাবি জানিয়ে দেশ রক্ষার কথা বলেছেন। এইরকম পরিস্থিতির মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চিন এই অভিযানকে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে। ফ্রান্স জানিয়েছে যে, বাইরের শক্তি দিয়ে সমাধান চাপিয়ে দেওয়া একদমই ঠিক নয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ভেনেজুয়েলার অনুরোধে আগামীকাল রাষ্ট্রসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক বসতে চলেছে।
ভোররাতের হামলার সময় কারাকাসে বিস্ফোরণ এবং হেলিকপ্টারের শব্দে ঘুম ভাঙে বাসিন্দাদের। মার্কিন সেনার দাবি, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং কোনও মার্কিন সেনার প্রাণহানি হয়নি। তবে ভেনেজুয়েলার তরফ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব এখনও জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, মাদুরোকে গ্রেফতারের পর ভেনেজুয়েলা সংকট নতুন মোড় নিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।












Click it and Unblock the Notifications