করোনা সংক্রমণের জের, ভারতকে সঙ্গে নিয়ে চিনকে একঘরে করার পথে হাঁটছে আমেরিকা!
বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩৭ লক্ষের কাছাকাছি। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের। আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সিংহভাগই, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকায়। আর এই সবকিছুর মূলে চিনকেই দেখছে আমেরিকা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেই লক্ষ্যে এবার চিনকে একঘরে করতে উঠে পড়ে লাগল ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাণিজ্যযুদ্ধ
এই করোনা মহামারী এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে পড়ে বিশ্ব বাণিজ্য হুমকির মুখে। মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এই মহামারীর জেরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সময় সমগ্র বিশ্বের জন্য।

চিনের উপর নির্ভর করছে গোটা বিশ্ব
ইতালির আমদানি করা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ব্লাড থিনার চিন থেকে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৯৭ শতাংশ, জাপান তাদের চাহিদার ৫০ শতাংশ এবং জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৪০ শতাংশ চিন থেকে আমদানি করে। এই মহামারী আরও চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে চিনের উপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই সাপ্লাই চেনকেই ভাঙতে চাইছে আমেরিকা।

চিনকে 'কঠিন পরিণতি'র হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
করোনা ভাইরাস আমেরিকাতে ছড়াতে শুরু করার সময় থেকেই জনসমক্ষে চিনকে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছেন ট্রাম্প। প্রথম থেকেই করোনা ভাইরাস নিয়ে চিনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কখনও পরোক্ষ আবার কখনও সরাসরি চিনকে দোষারোপ করেছেন এই সংক্রমক ব্যাধী ছড়ানোয়। করোনা নিয়ে চিনকে 'কঠিন পরিণতি'র হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছেন ট্রাম্প।

চিনকে শায়েস্তা করতে বাণিজ্যিক পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক
এদিকে কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প জানান, এই অবস্থায় চিনকে শায়েস্তা করতে বাণিজ্যিক পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে তাঁর প্রশাসন। বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে চুক্তিতে সই করলেও বর্তমান আবহে যে সেই চুক্তি সরে আসবে আমেরিকা, তা স্পষ্ট করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চিনকে কোণঠাসা করতে ভারতের সঙ্গ প্রয়োজন আমেরিকার
প্রথম থেকেই এই করোনা ভাইরাসকে 'চিনা ভাইরাস' বলে ডাকছিলেন ট্রাম্প। এই অবস্থায় বিশ্ব অর্থনীতিকে চিনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আমেরিকা। লক্ষ্য, চিনের সাপ্লাই চেন ভেঙে এই দেশগুলির উৎপাদনের সাহায্যে বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।












Click it and Unblock the Notifications