বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে জাতি-বর্ণের ভেদাভেদ নিষিদ্ধ, যুগান্তকারী রায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে আর কোনো জাতিগত ভেদাভেদ করা যাবে না। জাতি বা জাতিগত ভেদাভেদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারকরা এই উদারপন্থী নীতি বজায় রেখে তিনটি ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পিতবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে জাতিগত ভেদাভেদ তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে আফ্রিকান-আমেরিকান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ বেড়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বিগত এক দশক ধরে এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তা থেকে রক্ষা পেল শিক্ষা।

রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ ১৯৬০-এর এর দশক থেকে আইনে প্রতিষ্ঠিত উদার নীতি বাতিল করার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বিচারপতিরা এই সিদ্ধান্তে রক্ষণশীল-উদারপন্থী লাইনে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। স্কুলে ভর্তি, ব্যবসায় এবং সরকারি নিয়োগে বৈচিত্র্যের জন্য এটা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে গণ্য হয়েছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামত প্রসঙ্গে বলেছেন, এই চিরাচরিত ধ্যানধারণা অন্যদের বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক বৈষম্যের সমান। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই একজন ব্যক্তি হিসাবে তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আচরণ করতে দিতে হবে।
আদালত বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি একজন আবেদনকারীর পটভূমি বিবেচনা করার জন্য ইতিবাচক। কেননা তাঁরা বর্ণবাদের সম্মুখীন হয়ে বড়ো হয়েছে কি না বা তাঁদের আবেদনকে অ্যাকাডেমিকভাবে আরো যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয় কি না, তা নিরীক্ষাণ করা জরুরি।
বর্ণ-বিদ্বেষ বা জাতি-বিদ্বেষ নয়, সাদা বা কালো বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। জাতিগত বৈষম্য দূর করাই কাম্য। আমাদের সাংবিধানিক ইতিহাস সে কথাই বলে। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়র সংখ্যাগরিষ্ঠকে বর্ণান্ধ বলে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, জাতিকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

একটি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ স্টুডেন্টস ফর ফেয়ার অ্যাডমিশন দেশের প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষার প্রাইভেট এবং পাবলিক প্রতিষ্ঠান-- অভিজাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলিনার ভর্তি নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে৷
গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, জাতি-সচেতন ভর্তি নীতিগুলি দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এশিয়ান আমেরিকানদের সমান বা যোগ্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক।হার্ভার্ড ও ইউএনসি অন্যান্য অনেক প্রতিযোগী মার্কিন বিদ্যালয়ের মতো বৈচিত্র্যময় ছাত্র সংগঠন ও সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
আফ্রিকান ও আমেরিকানদের বিরুদ্ধে উচ্চশিক্ষায় বৈষম্যের উত্তরাধিকার মোকাবিলায় সহায়তা করার লক্ষ্যে ১৯৬০-এর দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলন থেকে এই ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপের নীতিগুলি উদ্ভূত হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের রায়টি রক্ষণশীলদের জন্য বিরাট জয় বেল উল্লিখিত থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications