আমেরিকা আর ভুল করবে না! আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত সঠিক বলে ব্যাখ্যা জো বাইডেনের
আফগানিস্তান ইস্যুতে সরাসরি মুখ খুললেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন। এবং তিনি স্পষ্টভাবে, সরাসরি জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানো সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকা কোনওরকম ভুল করেনি। বাইডেনের কথায়, যেখানে আফগান সেনাবাহিনী নিজেদের দেশকে রক্ষা করতে পারছে না, সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন বছরের পর বছর ধরে সেনা মোতায়েন করে রাখবে। তাই সেই দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিক।

সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত
এই বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে। এই ঘটনাকেই ফের একবার মনে করিয়ে এবং তা যে সঠিক তা ব্যাখ্যা করতে চেয়ে বাইডেন বলেছেন, আর কত বছর এবং কত প্রজন্ম ধরে আমেরিকার সন্তানরা আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধে লড়াই করবে, যেখানে আফগান সেনাই নিজেদের কাজ ঠিকমতো করে উঠতে পারেনি।

পালিয়েছেন গনিও
তালিবানরা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দখল নিয়ে ফেলেছে। এবং দেখা যাচ্ছে সে দেশের নাগরিকরা সন্ত্রস্ত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকী রাষ্ট্রপতি পদে থাকা আশরফ গনিও অন্য দেশে পালিয়ে গিয়েছেন। সে দেশের মহিলারা বিশেষ করে এক ভয়ঙ্কর দিনের আশঙ্কায় রাত কাটাচ্ছেন। কারণ তালিবান শাসনে মহিলারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন। ইতিমধ্যে গোটা দেশের দখল নিয়ে তালিবানরা এমনকী নিজেদের দেশের নাম বদলে ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান করে দিয়েছে।

অনড় বাইডেন
কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে ফের তা জানিয়েছেন। বলেছেন, 'আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়। কুড়ি বছর পরে আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং মার্কিন সেনা আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।'

কাজে আসেনি সেনা মোতায়েন
বাইডেন জানিয়েছেন, তিনি এবং তাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তা দল আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘটনার সবকটি দিক খতিয়ে দেখেছে। এবং আমেরিকার সেদেশে সেনা সাহায্য আদতে আফগানিস্তান সরকারের কোনও কাজে আসেনি। সংকটের মুহূর্তে যেভাবে আফগানিস্তান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন, এদিন বাইডেন তার কড়া সমালোচনা করেছেন।

তালিবানদের হুমকি
যদিও এর পাশাপাশি মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন তালিবানদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিতেও ছাড়েননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আফগানিস্তান ছেড়ে চলে আসার সময় কোনও মার্কিন নাগরিকের যদি অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়, তাহলে তালিবানদের যোগ্য জবাব দেবে মার্কিন সেনা।

সময়েই দেশ ছাড়বে মার্কিন সেনা
প্রত্যাহারের সমস্ত কাজ সম্পন্ন হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে দীর্ঘতম যুদ্ধে ইতি ঘোষণা করবে। এদিন বাইডেন বলেছেন, এতদিন এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, যত বেশি সেনাই মোতায়েন করা হোক না কেন, তা আফগানিস্থানে একটি সংঘবদ্ধ, স্থিত এবং নিরাপদ সরকার তৈরি করতে পারেনি।

ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না আমেরিকা
বাইডেন বলেছেন, আমি চতুর্থ মার্কিন রাষ্ট্রপতি যার হাতে এই যুদ্ধ চালানোর দায়িত্ব এসেছিল। দুজন ডেমোক্র্যাট এবং দুজন রিপাবলিকান। আমি এই দায়ভার পঞ্চম রাষ্ট্রপতির হাতে দিয়ে যেতে চাই না। এর পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অতীতে যে ভুল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করেছে, সেই ভুল তিনি আর করতে চান না। আর সেই কারণেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

অনুতপ্ত নন বাইডেন
এই প্রসঙ্গে জো বাইডেনের স্পষ্ট বক্তব্য, আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। এবং এই মুহূর্তে যে অবস্থা চলছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা নিয়ে একেবারেই অনুতপ্ত নই। আমি আমাদের দেশের সেনাকে চিরকালের জন্য অন্য দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বলতে পারিনা।

খুশি চিন-পাকিস্তান, চিন্তায় ভারত
ঘটনা হল, আফগানিস্তানের একের পর এক প্রদেশ দখল করতে করতে এগিয়ে এসে শেষ অবধি কাবুল দখল করে ফের একবার আফগানিস্তানের মাটিতে তালিবান রাজ চালানোর বিষয়টিকে স্পষ্ট করে দিয়েছে তালিবানরা। সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ মার্কিন সেনা পুরোপুরিভাবে সেদেশ ছাড়ার আগেই তালিবানরা দেশ দখল করে ফেলেছে। এবং এই ঘটনায় যে চিন ও পাকিস্তান বেজায় খুশি বা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি ভারতের জন্য এই বিষয়টি একেবারেই ভালো খবর নয়। আফগানিস্তানে তালিবানদের সরকার মানে তা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত মেলাবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়। পাশাপাশি তা চিন-পাকিস্তানের মতো ভারতের শত্রু দেশের কাছে অ্যাডভান্টেজ হয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। একইসঙ্গে আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে ভারতের গত দুই দশকের যে প্রয়াস সেই প্রচেষ্টাতেও জল ঢেলে দিয়েছে একপ্রকার।












Click it and Unblock the Notifications