ন্যান্সি পোলসির তাইওয়ান সফর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনার পারদ, ফোনে বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক জিনপিংয়ের
ন্যান্সি পোলসির তাইওয়ান সফর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনার পারদ, ফোনে বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক জিনপিংয়ের
মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পোলসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সঙ্গে চিনের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। এই উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনে বৈঠক হয়। মার্চের পর এই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চিনা রাষ্ট্রপ্রধান বৈঠক করেন। আমেরিকার সঙ্গে চিনের একাধিক বিষয়ে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। ন্যান্সি পোলসির তাইওয়ান সফর সেই উত্তেজনা যে বাড়িয়ে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পোলসির তাইওয়ান সফর ঘিরে চিনের হুমকি
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পোলসি কবে তাইওয়ান সফরে যাবেন, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও দিন প্রকাশ করা হয়নি। তবে ন্যান্সি পোলসির তাইওয়ানের সফরের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই চিনা প্রশাসন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝা লিজিয়ান বলেন, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত চিনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত করছে। চিন তাদের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। এই সফরের জেরে যে কোনও পরিণতির দায় আমেরিকাকে নিতে হবে বলেও তিনি হুমকি দেন। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, ন্যান্সি পোলসি তাইওয়ান গেলে চুপ করে বসে থাকবে না চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি। তারা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

চিনের ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ
মার্কিন প্রশাসন একাধিক সচিব আগে তাইওয়ানে গিয়েছেন। ট্রাম্পের শাসনকালের শেষের দিকে তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন। তবে ন্যান্সি পোলসির তাইওয়ান সফর একটি আলাদা। ন্যান্সি পোলসি আমেরিকার অন্যতম ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মার্কিন প্রেসিডন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পরেই তাঁর ক্ষমতা। এছাড়াও আমেরিকার সঙ্গে চিনের সম্পর্ক একেবারেই ভালো নয়। আমেরিকা কট্টর চিন বিরোধী হিসেবে পরিচিত। বার বার চিনের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমেরিকা। আমেরিকার সঙ্গে চিনের বাণিজ্য ক্ষেত্রে একটা চাপা লড়াই সব সময় চলে। এই পরিস্থিতি ন্যান্সি পোলসির মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের তাইওয়ান সফর স্বাভাবিকভাবে দেখছে না চিন। এই সফর উদ্দেশ্যপ্রণেদিত বলেই চিন মনে করছে।

চিন, আমেরিকা ও তাইওয়ানের সম্পর্ক
চিন সব সময় তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে এসেছে। সেখানে তাইওয়ান প্রশাসনের সঙ্গে আলাদাভাবে অন্য দেশের সম্পর্ক কখনই ভালো চোখে নেয় না চিন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জো বাইডেন তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে, তা চিনের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে অন্তত তিন বার জো বাইডেন বলেছেন, তাইওয়ান কোনওভাবে আক্রান্ত হলে আমেরিকা সামরিক হস্তক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এটা যে পরোক্ষে চিনকে হুমকি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications