US President Election 2024: আমেরিকার ভোটে দ্বিমুখী লড়াই, কোন কোন ফ্যাক্টরে এগিয়ে কমলা ও ট্রাম্প?
US President Election 2024: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মুখ সমরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস। জয় নিয়ে আশাবাদী দুই প্রার্থীই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, অভিবাসন নীতি, নারী অধিকার-সহ একাধিক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কোন কোন ফ্যাক্টর এগিয়ে রাখছে ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসকে?
করোনার পর মূল্যবৃদ্ধি (Inflation) ও বেকারত্ব (Unemployment) নিয়ে জেরবার আমেরিকাবাসী। ১৯৭০-র পর এহেন মুদ্রাস্ফিতী দেখেননি বলে দাবি তাদের। জীবনযাপনের খরচ নিত্যদিন বেড়েই চলেছে দেশবাসীর। এমতাবস্থায় সরকারে পরিবর্তন চান একাংশ। ট্রাম্পকে (Donald Trump) ফের ক্ষমতায় আনতে পারেন তারা।

শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত চললেও সমর্থন এতটুকু কমেনি রিপাবলিকানদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর। বাইডেনের কাছে পরাজয় না মানতে পেরে ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে আমেরিকার আইনসভায় হামলা চালায় ট্রাম্প সমর্থকরা। এতকিছুর পরেও ৪০ শতাংশেরও বেশি সমর্থন রয়েছে ট্রাম্পের পক্ষে।
গর্ভপাতের অধিকার ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ের আশায় বুক বাঁধছে ডেমোক্র্যাটরা। পাল্টা রিপাবলিকানদের বাজি অভিবাসন নীতি। বাইডেনের শাসনকালে সীমান্তে রেকর্ড গোলাগুলি দেখেছে আমেরিকা। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলিতে লাতিনোদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। সেকারণেই অভিবাসন নীতি ইস্যুতে ট্রাম্পই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটারদের একাংশ মনে করেন অচলাবস্থা কাটাতে ভরসা একমাত্র ট্রাম্প। ইউক্রেন ও ইজরায়েলের যুদ্ধে বিপুল খরচ করছে আমেরিকা, যা নিয়ে ক্ষোভ জন্মেছে দেশবাসীর একাংশের মনে। বাইডেনের শাসনকালে গোটা বিশ্ব আমেরিকাকে দুর্বল ভাবছে বলেও মনে করেন তারা। সেকারণেই ট্রাম্পকে কমলার তুলনায় এগিয়ে রাখছেন ভোটারদের একাংশ।
অন্যদিকে মেরুকরণের ধ্বজাধারী তকমা ঘুচিয়ে উঠতে পারেননি ট্রাম্প। আর সেখানেই কমলা হ্যারিসকে পছন্দ করছেন ভোটারদের একাংশ। ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট ও গণতন্ত্রের খলনায়ক হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী। গণতন্ত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা নিয়ে দেশবাসীকে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন কমলা হ্যারিস (Kamala Harris)।
বাইডেনের বয়স নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছিল ভোটমুখী আমেরিকায়। ট্রাম্পকে হারাতে গিয়ে বাইডেনই পর্যুদস্ত হবেন বলে আশা করেছিলেন রিপাবলিকানরা। কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন বাইডেন। উল্টে ট্রাম্পের তুলনায় কম বয়সী কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী করে ডেমোক্র্যাটরা। বয়স নিয়ে সমালোচনা বুমেরাং হল ট্রাম্পদের। সেদিক থেকেও এগিয়ে রইলেন কমলা হ্যারিস।
গর্ভপাতের অধিকার ফেরানোর দাবি নিয়ে বছরভর আন্দোলন চলে আসছে আমেরিকায়। ২০২২ সালে আচমকাই নারীদের গর্ভপাতের অধিকার কেড়ে নিয়ে রাজ্যভিত্তিক আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। একাধিক অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ হয়। ক্ষমতায় ফিরলে গর্ভপাত নিয়ে সারা দেশে কেন্দ্রীয় আইন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কমলা। মহিলা ভোটেও তাই এগিয়ে রাখা হচ্ছে কমলা হ্যারিসকে।
কমলার ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই কলেজ পড়ুয়া ও শিক্ষিত সমাজের নাগরিকরা রয়েছেন। অপরদিকে ট্রাম্পের ভোটারদের অধিকাংশেরই কলেজের ডিগ্রি পর্যন্ত নেই। শুধু তাই নয়, আমেরিকার ভোট খুবই ব্যয়বহুল। ২০২৪ এর ভোটে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। সূত্রের খবর, রিপাবলিকানদের তুলনায় ভোটের প্রচারে এখনও পর্যন্ত দ্বিগুণ খরচ করেছে ডেমোক্র্যাটরা। সেদিক থেকেও এগিয়ে রয়েছেন কমলা হ্যারিসই।












Click it and Unblock the Notifications