US Presidential Election: রাত পোহালেই ট্রাম্প-কমলা দ্বৈরথ, কীভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় আমেরিকায়? বিস্তারিত
US Presidential Elections 2024: রাত পোহালেই মার্কিন মুলুকে ভোটগ্রহণ। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। আগাম ভোটদানে (early voting) ইতিমধ্যেই ভোট দিয়ে ফেলেছেন প্রায় ৭.৫ কোটি মানুষ। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) রিপাবলিকানদের প্রার্থী। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস (Kamala Harris)।
কয়েকটি ধাপে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। প্রথমে পার্টি প্রাইমারিজ়, এরপর মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রচার ও ইলেক্টোরাল কলেজ সিস্টেম। ৫ নভেম্বর ভোটগ্রহণের জন্য স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে বুথ খোলা হবে।

- ভোটাধিকার প্রয়োগের শর্ত কী?
আমেরিকায় ভোট দেওয়ার জন্যে ভারতের মতোই কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যার প্রাথমিক শর্ত হল ভোটদাতাকে ১৮ বছর বয়স ঊর্ধ্ব মার্কিন নাগরিক হতে হবে। তবে অঙ্গরাজ্যগুলি অনুযায়ী নিয়মের হেরফের হতে পারে। ভোটদাতার যেকোনওপ্রকার ক্রাইম রেকর্ড থাকলে তার ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার খারিজ হতে পারে। ২০২০তে প্রায় ৬৬ শতাংশ যোগ্য ভোটার ছিলেন তালিকায়। গত এক শতকে যা ছিল সর্বোচ্চ।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী কারা?
কমলা হ্যারিস: আমেরিকার উপরাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিস এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী। ক্যালিফোর্নিয়া আসন থেকে আমেরিকার সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য অর্থাৎ সেনেটর ছিলেন কমলা। গত জুলাইতে জো বাইডেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে কমলাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে জায়গা করে দেন। কমলা জিতলে আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প: ২০২০-তে হেরে গিয়ে ফের ২০২৪-এ হোয়াইট হাউসের লড়াইতে রিপাবলিকানদের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটে জিতলে ৮২ বছর বয়সে আমেরিকার প্রবীণতম প্রেসিডেন্ট হবেন ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চলছে।
কর্নেল ওয়েস্ট (Cornel West): প্রথমে পিপলস পার্টি, পরে গ্রিন পার্টির হয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষে নির্দলের হয়ে দাঁড়িয়েছেন কর্নেল ওয়েস্ট। বারাক ওবামার সমালোচনার জন্য সুপরিচিত এই প্রার্থী। ইয়েল, প্রিন্সটন ও হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলোজফি নিয়ে অধ্যপনা করেছেন তিনি। বর্তমানে ইউনিয়ন থিওলজিকাল সেমিনারির অধ্যাপক কর্নেল ওয়েস্ট।
জিল স্টেইন (Jill Stein): গ্রিন পার্টির হয়ে দাঁড়িয়েছেন জিল স্টেইন। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আবাস, খাদ্য ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে ইকনমিক বিল অফ রাইটস আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জিল স্টেইন। মিচিগান, আরিজোনা ও উইসকনসিন প্রদেশে আরব-আমেরিকান ও মুসলিমদের ভোটের সমর্থন রয়েছে জিলের ঝুলিতে।
চেজ় অলিভার (Chase Oliver): ৩৮ বছর বয়সী এই প্রার্থী মূলত বাম ঘেঁষা লিবারটারিয়ান পার্টির প্রার্থী। আমেরিকার ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করে রাজনীতিতে উত্থান অলিভারের। নিজেকে আর্মড এবং গে বলেন তিনি। চলতি বছরের নির্বাচনে কনিষ্ঠতম প্রার্থী অলিভার।
- ইলেকটোরাল কলেজ সিস্টেম কী?
আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও তিনিই প্রেসিডেন্ট হবেন এরকম কোনও মানে নেই। ইলেকটোরাল কলেজ (Electoral College) সিস্টেমের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাছা হয়। প্রত্যেক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের মাধ্যমেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ইলেকটোরাল কলেজে মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮।
মোট ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটি জয়ী হলেই সেই রাজ্যের সবকটি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যাবেন জয়ী প্রার্থী। ভোটারদের দেওয়া সরাসরি ভোটে যিনি জয়ী হন, সাধারণত অঙ্গরাজ্যগুলির ইলেকটোরাল কলেজের ভোটও সেদিকেই যায়। জনসংখ্যার মোটামুটি সমানুপাতিক ইলেক্টোরাল ভোট থাকে অঙ্গরাজ্যগুলির হাতে।
- পপুলার ভোট কী?
ভোটের রাতেই সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তবে সব ইলেক্টররা ডিসেম্বরে ভোট দেবেন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য। জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখে হবে গণনা। তারপর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করা হবে। ২০ জানুয়ারি ক্ষমতার হস্তান্তর ও প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
সুইং স্টেট (Swing States) কী?
নির্বাচনের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে সাত প্রদেশের ফল। তাই সুই স্টেটগুলির উপর বেশি নজর থাকে প্রার্থীদের। এই সাতটি সুইং স্টেট হল আরিজোনা, জর্জিয়া, মিচিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভেনিয়া ও উইসকনসিন। এই প্রদেশগুলিতে ঐতিহাসিক ভাবে একা আধিপত্য বজায় রেখেছে কোনও একটি রাজনৈতিক দল। তাই এই সাতটি প্রদেশকে একেকটি দলের শক্ত গড় বলা যেতে পারে।
নভেম্বরে আর কাদের নির্বাচন? জয় ঘোষণা কবে?
প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ কংগ্রেসের নতুন সদস্যদেরও নির্বাচন করা হবে। কংগ্রেসে ৪৩৫টি আসন রয়েছে। অপরদিকে সংসদের উচ্চকক্ষ সেনেটের ৩৪টি আসনেও হবে নির্বাচন। নির্বাচনের রাতেই সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তবে খুব স্বল্প ব্যবধান থাকলে জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। নির্বাচনোত্তর সময়কালকে ট্রানজিশন বলা হয়। এই সময় ক্ষমতার হস্তান্তর ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
কোনও প্রার্থীই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী হবে?
২৭০টি ভোট যদি কোনও প্রার্থীই না পান, সেক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলি থেকে একটি করে ভোট নেওয়া হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরও ২৬টি আসন পেতে হবে সেই প্রার্থীকে। এদিকে সংসদের উচ্চকক্ষে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে ভাইস প্রেসিডেন্টকে।












Click it and Unblock the Notifications