ক্রমশ বাড়তে থাকা যুদ্ধের আবহে আমেরিকাবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে ক্রমশ। এরই মাঝে আমেরিকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে বক্তৃতা রাখবেন বলে জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ইরাকে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পরও দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে ভআষণ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, অল ইজ ওয়েল!

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা ছাউনিতে ইরানের হামলা
বুধবার ভোর রাতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে ইরানের তরফে একের পর এক মিসাইল হানা হয়। প্রায় হাফ ডজন মিসাইল মার্কিন সেনাকে তাক করে হামলার পর শান্ত হয় তেহরান। আর এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'অল ইজ ওয়েল! ইরান থেকে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে মিসাইল হানা করা হয়েছে। হতাহতের হিসাবে এখন নেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর সেনা রয়েছে। আমি একটি বক্তব্য রাখব কাল।'

বাগদাদে আমেরিকার দূতাবাসে রকেট হামলা
এদিকে সেই মিসাইল হামলার ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই বুধবার গভীর রাতে ফের ইরাকের রাজধানী বাগদাদে রকেট হামলা চালানো হল। তবে এই হামলার দায় এখনও স্বীকার করেনি ইরান। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হামলাটি বাগদাদে অবস্থিত গ্রিন জোনে চালানো হয় যেখানে আমেরিকা হয় বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাস রয়েছে।

ইরানের দাবি সেনাঘআঁটিতে হামলার ঘটনায় ৮- মার্কিন 'জঙ্গি' নিহত হয়
এর আগে বুধবার ভোর রাতে চালানো ঘটনা সম্পর্কে ইরানের এক সিনিয়র রেভোলিউশনরি গার্ডকে উদ্ধৃত করে ইরানের মিডিয়া জানিয়েছিল, সেই হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে ইরান। শুধু তাই নয়, একাধিক মার্কিনী সমরাস্ত্র গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সেনা। প্রায় হাফ ডজন মিসাইল মার্কিন সেনাকে তাক করে হামলার পর শান্ত হয় তেহরান।

যুদ্ধ নয় শান্তি চায় আমেরিকা
এদিকে পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হলেও আমেরিকা জানাচ্ছে তারা যুদ্ধ নয় শান্তি চায়। এর আগেও কাসেম সুলেমানির হত্যার পর আমেরিকা জানিয়েছিল যে নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই এই কাজ তারা করেছে। সুলেমানির মৃত্যুর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, 'সুলেমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের উপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এছাড়া মার্কিন সেনা আধিকারিকদেরও মারার পরিকল্পনা করছিল সে ও তার কুদস ফোর্স। বহু মার্কিনি এবং জোটের সদস্যের হতাহতের জন্য দায়ি। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরাকে থাকা মার্কিনিদের সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।'

ইরানের হুমকি
তবে সেই কথা মানতে নারাজ ইরান। এই ঘটনার পরেই আমেরিকার উপর প্রতিশোধের হুমকি দেন আয়াতুল্লা খামেনি সহ সেদেশের বিদেশমন্ত্রি জাভাদ জারিফ। এমন কি মার্কিন সেনাদের জঙ্গি ঘোষণা করা হয় ইরানের তরফে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাথার দাম ধার্য করে তেহরান।

আমেরিকার ১০০ টি জায়গায় জবাব দেবে বলে জানায় ইরান
এদিকে ট্রাম্প সরকার আগে জানিয়েছিল যে ইরান যদি মার্কিন মুলুকে হামলার চেষ্টা করে বা মার্কিন সেনাকে নিশানায় রাখতে চায়, তাহলে ইরানের ৫২ টি জায়গায় হামলা করবে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ৫২ টি ইরানের জায়গা চিহ্নিত করে রেখেছে। তার জবাবে এদিন ইরান জানিয়েছে তারা ১০০ টি জায়গাকে বেছে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিনীদের একটা হামলা ইরানে হলেই ওই ১০০ টি জায়গায় জবাব দেবে ইরান।

আত্মসংযম চর্চার আহ্বান রাষ্ট্রসংঘ প্রধানের
পরিস্থিতির গাম্ভীর্য দেখে বিবৃতি দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তোনিও গুতেরেসের বলেন, এই হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়বে। এ মুহূর্তে ওই অঞ্চলে আরেকটি যুদ্ধের ধকল সামলাতে পারবে না বিশ্ব। তাই শীর্ষ নেতাদের সর্বোচ্চ আত্মসংযম চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications