পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা ট্রাম্পের, কাদের ভয় দেখাতে চাইছে আমেরিকা?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চিনের পারমাণবিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে অবিলম্বে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা করেছেন। বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এটি আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত।
এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সাল থেকে চলে আসা স্বেচ্ছামূলক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে "অবিলম্বে" পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করবে।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বুসান, দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্ধারিত বৈঠকের কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এই পদক্ষেপের কৌশলগত ও প্রতীকী গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্প জানান, রাশিয়া এবং চিনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর "ট্রুথ সোশ্যাল" পোস্টে লিখেছেন, "অন্যান্য দেশের পরীক্ষামূলক কর্মসূচির কারণে, আমি যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি যে আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা যেন সমতার ভিত্তিতে শুরু হয়। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।" তিনি আরও দাবি করেন, তার প্রথম মেয়াদে আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্রের "সম্পূর্ণ আধুনিকীকরণ ও সংস্কার" করা হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রচণ্ড ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কারণে, আমি এটা করতে ঘৃণা করি, কিন্তু আমার কোনও বিকল্প ছিল না।"
এই ঘোষণার ফলে ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিকল্পিত পারমাণবিক পরীক্ষার হতে চলেছে। সর্বশেষ মার্কিন পারমাণবিক পরীক্ষা ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বরে নেভাদা টেস্ট সাইটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর থেকে, ওয়াশিংটন নিজেদের অস্ত্রের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক কম্পিউটার মডেলিং এবং সাবক্রিটিকাল পরীক্ষার উপর নির্ভর করে আসছিল।
যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ট্রাম্পের এই নির্দেশ এক ইতিহাস তৈরি করবে এবং ওয়াশিংটনের পারমাণবিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণ মাত্রায় পরীক্ষা পুনরায় শুরু হলে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংযম ভেঙে যেতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে নতুন অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
ওদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বেজিং তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ২০২০ সালে প্রায় ৩০০ ওয়ারহেড থেকে বর্তমানে ৬০০টিতে উন্নীত হয়েছে। এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে চিনের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications