US Election 2024: আশ্বাস কমলার, সুর নরম ট্রাম্পেরও; গর্ভপাতের অধিকার ফিরবে আমেরিকায়? মঙ্গলের ভোটে ফয়সালা
US President Election 2024: মঙ্গলবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন, সেই প্রশ্নের জবাব দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরের উপর। তারই মধ্যে অন্যতম গর্ভপাতের অধিকার (abortion rights)। আমেরিকার সুইং স্টেটগুলিতে (Swing States) সিংহভাগ ভোটই নির্ভর করছে এই ফ্যাক্টরের উপর।
গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে বছরভর প্রতিবাদ আন্দোলন (Protests) চলেছে মার্কিন মুলুকে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসতেই নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা পেয়েছে সেই আন্দোলন। গর্ভপাতের উপর সুপ্রিম কোর্টের বিধিনিষেধ আরোপের পর এই প্রথম আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আমেরিকার রাস্তায় শয়ে শয়ে মহিলাদের প্রতিবাদই জানান দিচ্ছে, পরবর্তী প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে গর্ভপাতের অধিকার তারা ছিনিয়ে আনবেনই।

১৯৭৩ সালে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে বড় রায় ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আমেরিকান নারীদের গর্ভপাত করানোর সাংবিধানিক অধিকার দেওয়া হয়েছিল সেসময়। তার ৫০ বছর বাদে ২০২২ সালে আচমকাই সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হল। গর্ভপাতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে আলাদা আলাদা অঙ্গরাজ্যগুলিকে নিজেদের মতো আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটেন মহিলারা।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে অঙ্গরাজ্যগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন আইন তৈরি হয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে গর্ভপাতের অধিকার বৈধ থাকলেও টেক্সাসে আবার কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বর্তমানে ১৭টি অঙ্গরাজ্য গর্ভপাতের বিরোধিতায় আইন এনেছে।
অন্যদিকে কিছু অঙ্গরাজ্যে ধর্ষণ বা প্রাণহানির মতো পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ নাগরিকই চান গর্ভপাত বৈধ হোক। কিন্তু তা সত্ত্বেও আদালতের বিধিনিষেধে নারীদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে দাবি।
এমতাবস্থায় ভোটের প্রচারে নারীদের অধিকার ফেরানোর বার্তা দিয়েছেন প্রধান দুই প্রার্থী কমলা হ্যারিস (Kamala Harris) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। গর্ভপাত নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটিই আইন আনার পক্ষে কমলা। যদিও ডেমোক্র্যাটদের শাসনকালেই ২০২২-এ গর্ভপাতের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সময় কমলাও সেই প্রশাসনে ছিলেন। মসনদে তারই পূর্বসূরী জো বাইডেন বিধিনিষেধের পক্ষে সায় দেন।
এদিকে গর্ভপাতের আইন নিয়ে সুর নরম ট্রাম্পেরও। গর্ভপাতে অধিকার তুলে দেওয়ার সময় বিচারপতি নিয়োগ করেছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ১৮০ ডিগ্রি উল্টো পথে হেঁটে এখন তাঁর বার্তা, দেশজুড়ে গর্ভপাত বিরোধী কোনও আইন তিনি নাকি চান না।
যদিও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে স্পষ্ট জবাব চান আমেরিকান ভোটাররা। ২০২৪-এ এসে নারী স্বাধীনতায় এতটুকু হস্তক্ষেপ মানতে নারাজ তাঁরা। ভোটবাক্সেও যে তার প্রতিফলন ঘটবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications