Donald Trump: বাইডেনের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভের আগুন থেকেই জয়ের মশাল জ্বালালেন ট্রাম্প
US President Election 2024: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বুথ ফেরত সমীক্ষাকেও ভুল প্রমাণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যমগুলিতে প্রেসিডেন্টের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হয়েছিল কমলা হ্যারিসকে। বুথ ফেরত সমীক্ষা মেনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও জয়ের স্বাদ পেলেন না কমলা। ২৯৫ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে মার্কিন মসনদে দ্বিতীয়বারের জন্য জায়গা করে নিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাইডেন (Joe Biden) প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন থেকেই জয়ের রাস্তা আরও মসৃণ হয়েছিল ট্রাম্পের (Donald Trump)। অবৈধ অভিবাসন ও যুদ্ধ ছিল মার্কিন নাগরিকদের ক্ষোভের মূল বিষয়।

স্রেফ তাই নয়, বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানা গিয়েছিল দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা নিয়েও বেজায় উদ্বেগে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরকিরা। প্রতিকার তো দূর, উক্ত সমস্যাগুলি বাইডেনের আমলে আরও তীব্রতর হয়েছে বলে দাবি জনতার।
সমস্যার প্রতিকার খুঁজতে বাইডেনের সরকারকে সরিয়ে ট্রাম্পকে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। ৭৮ বছর বয়সে ফের মার্কিন মসনদে বসবেন তিনি। শুধু বয়স নয়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত চললেও সমর্থন এতটুকু কমেনি রিপাবলিকানদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর। শেষ ভোটে বাইডেনের কাছে পরাজয় না মানতে পেরে ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে আমেরিকার আইনসভায় হামলা চালায় ট্রাম্প সমর্থকরা। এতকিছুর পরেও ফের মসনদে বসলেন ট্রাম্প।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন সমস্যায় (Immigration) জেরবার আমেরিকাবাসী আর্থিক নিরাপত্তা খোয়াতে বসেছিলেন। প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন ক্ষমতায় ফিরলে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে তাড়ানো হবে। কড়া অভিবাসন নীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এমনকী অবৈধ অভিবাসীদের আবর্জনার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন ট্রাম্প। দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্বাস্তুদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাতেই ব্যাপক সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন রিপাবলিকানদের প্রার্থী।
ভোটে জেতার আগে থেকেই বিভিন্ন সভামঞ্চ থেকে যুদ্ধ (War) থামানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধও ট্রাম্প নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন বলে মনে করেছেন ভোটাররা।
বাইডেনের শাসনকালে ইউক্রেন ও ইজরায়েলের যুদ্ধে বিপুল খরচ করছে আমেরিকা, যা নিয়ে ক্ষোভ জন্মেছে দেশবাসীর একাংশের মনে। যুদ্ধের খরচ যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের পকেট থেকে গিয়েছে বলে দাবি তুলে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে পড়েছে ভোট।
বাইডেনের শাসনকালে মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের সমস্যায় জেরবার যুক্তরাষ্ট্রবাসী। ১৯৭০-র পর এহেন মুদ্রাস্ফিতী দেখেননি বলে দাবি তাদের। জীবনযাপনের খরচ নিত্যদিন বেড়েই চলেছে দেশবাসীর। প্রচারে নেমে ট্রাম্প মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি তো দিয়েছেনই, সর্বোপরি আর্থিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করার অঙ্গীকারও নেবেন বলে জানান ট্রাম্প। যার জেরে শ্রমিকমহল, কর্মচারীদের সিংহভাগ ভোট ঝুলিতে পুড়তে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
বাইডেনের শাসনকালে আমেরিকাবাসী যে ভালো নেই, তা বারবার প্রচারে নেমে মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প-সহ রিপাবলিকানরা। তাই প্রত্যাবর্তনের পরিবর্তে সরকারে পালাবদলকেই বেছে নিয়েছেন তারা। ভোটে জিতে আমেরিকায় স্বর্ণযুগ ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও।












Click it and Unblock the Notifications