স্কার্টের তলা দিয়ে ক্লিক! আদালতের চোখে অপরাধ নয়

যদি ভারতে কেউ কোনও তরুণীর স্কার্টের তলায় উঁকিঝুঁকি মেরে চুপিসাড়ে ছবি তোলে, তা হলে কী হবে?
জনবহুল জায়গায় ধরা পড়লে নির্ঘাৎ গণধোলাই। তার পর শ্লীলতাহানির দায়ে হাজতবাস নিশ্চিত।
ভাবছেন, এমন অসভ্য ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা কেন? আসলে মার্কিন মুলুকের ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট বা উচ্চতম আদালত বলেছে, কোনও নারীর স্কার্টের তলা দিয়ে ছবি তুললে সেটা বেআইনি নয়! কারণ আইনে এ ব্যাপারে কোনও উল্লেখ নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট মামলায় বেকসুর খালাস পেয়ে গিয়েছে অভিযুক্ত।
ব্যাপারটা তা হলে খুলে বলা যাক।
'ভয়্যারিজম অপরাধ, আপস্কার্টিং নয়'
মার্কিন মুলুকের অধিকাংশ নারীই সংক্ষিপ্ত বেশভূষায় অভ্যস্ত। বিশেষত ছোটো-খাটো স্কার্টে। মাইকেল রবার্টসনের তাই পোয়াবারো। মাঝবয়সী ব্যক্তি। রাস্তায়. ভিড় বাসে জায়গা বুঝে সেঁধিয়ে যেত। কোনও কিশোরী বা তরুণীকে ছোটো স্কার্টে দেখলে নিজের মোবাইল ক্যামেরায় টুক করে ছবি তুলে নিত। এটাই ছিল তার বিকৃত আনন্দ। একদিন তেমনটা করছিল আর কী! হঠাৎ পড়ল ধরা। সোজা পুলিশের কবজায়। নিম্ন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্টে আপিল করতেই ঘুরে গেল মামলার মোড়। আদালত তাকে 'নির্দোষ' বলে খালাস করে দিল।
কেন?
আদালত আইনের যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তার পর রাজ্য আইনসভার স্পিকার পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, আইনে বিস্তর ফাঁক রয়েছে বটে!
ম্যাসাচুসেটসের আইন অনুযায়ী, 'পিপিং টম' আইনের চোখে দোষী। 'পিপিং টম' কাকে বলে? কেউ যদি লুকিয়ে লুকিয়ে কাউকে নগ্ন বা অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখে বা নরনারীর গোপন কার্যকলাপ ইচ্ছাকৃতভাবে চুপিসাড়ে দেখতে থাকে, তাকে 'পিপিং টম' বলা হয়। আর 'পিপিং টম' যে কাজটা করে, তাকে 'ভয়্যারিজম' বলা হয় আইনের ভাষায়।
আদালতের ব্যাখ্যা, মাইকেল রবার্টসন যা করেছে, সেটা 'পিপিং টম' বা 'ভয়্যারিজম' কোনওটাই নয়। মেয়েদের স্কার্টের নীচ দিয়ে ছবি তোলাকে বলা হয় 'আপস্কার্টিং', যা ম্যাসাচুসেটসের আইন নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেনি। শুধু তাই নয়। যে মহিলাদের স্কার্টের তলা দিয়ে সে ছবি তুলেছিল, তারা কেউই নগ্ন ছিল না বলে ব্যাখ্যা বিচারপতির। সুতরাং অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়ার অর্থ হল ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা। ফলে অভিযোগ থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
পুরো ঘটনা শুনে প্রথমে ভ্যাবলা বনে গিয়েছিলেন রাজ্য আইনসভার স্পিকার রবার্ট ডি লিও। স্বীকার করেছেন যে, আইনে খামতি রয়েছে। 'আপস্কার্টিং' শব্দটা অবশ্যই আইনে উল্লেখ থাকা উচিত ছিল। তিনি বলেছেন, "আদালতের এই রায় আজকালকার আইনি আদর্শের সঙ্গে খাপ খায় না। অবিলম্বে আইনসভা আইনে বদল আনবে।"
আদালতের সিদ্ধান্তে ঝড় উঠেছে টুইটারে। জনৈকা মহিলা লিখেছেন, "আপস্কার্টিং নিঃসন্দেহে অপরাধ। এবার আদালত সেই অপরাধকে সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দিল।"












Click it and Unblock the Notifications