Adani Issue: আদানিদের উপর আনা অভিযোগে আদতে চিনেরই লাভ! জেনেও নিজের পায়ে কুড়ুল মারছে আমেরিকা?

Adani Issue: বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে যেকোনও শক্তিশালী দেশেরই উচিত সংগঠিত ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক রাখা। কূটনৈতিক সম্পর্কও যথাযথ রাখা উচিত। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমেরিকার (USA) বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্টো কথাই বলছে। বিশেষত আদানি (Adani) নিয়ে তাঁদের বাড়বাড়ন্তে প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকা কি তাহলে নিজের পায়েই কুড়ুল মারতে চাইছে?

গৌতম আদানির উপর আমেরিকায় ন্যায় বিভাগ যে অভিযোগ এনেছে, তাতে করে চিনের (China) বেল্ট অ্যান্ড রোড (BRI) উদ্যোগের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একজোট হওয়া দেশগুলির জোটে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আর এই বিপদ বুঝেও আদানিদের নিয়ে আমেরিকার বাড়বাড়ন্ত সত্যিই প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।

US ADANI

বিগত কয়েক বছরে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে বিশ্ব মাঝে শক্ত জায়গা করে নিয়েছে চিন। এই বিশাল নেটওয়ার্ক প্রায় ১৫০টি দেশকে জুড়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই এই নেটওয়ার্কের দ্বারা প্রভাবিত। নিউ সিল্ক রোড নামে পরিচিত এই উদ্যোগে বেজিং অভাবনীয় সাফল্যের পথ খুঁজে পেয়েছে।

বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্যের (Global Trade) ক্ষেত্রে যেমন মধ্যপ্রাচ্য হোক বা দক্ষিণ এশিয়া, আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে শি জিনপিংয়ের দেশ। পাকিস্তান ও ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক সখ্যতা বেড়েছে চিনের। অথচ পশ্চিমে সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে ওই দুই দেশের।

চিনের এই আধিপত্য রুখতে ২০২৩ সালে পাল্টা ভারত-মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোরের উদ্যোগ নেওয়া হয় ভারতের তরফে। মধ্যপ্রাচ্যের উপর দিয়ে ওই করিডোর ভারতের বন্দরগুলির সঙ্গে ইউরোপের সরাসরি যোগ স্থাপন করবে। আঞ্চলিক স্থিতি বজায় রাখা ও পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নতি করাই এর উদ্দেশ্য। কম সময়ে, কম জ্বালানি খরচে বাণিজ্যে জোর দিতেই চিনের BRI-এর পাল্টা এই উদ্যোগ ভারতের।

কূটনৈতিক কৌশলীদের মতে, ভারতের এই উদ্যোগের প্রশংসা করাই শ্রেয়। কিন্তু তা না করে উল্টে ২০২৪ এর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আদানি ঘুষকাণ্ড উসকে দিয়ে গোটা পরিকাঠামোর উপরই বিপদ এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। ভারত-সহ বিদেশেও নানা পরিকাঠামো রূপায়ণে ভূমিকা রয়েছে আদানিদের। তেমনই, উপোরক্ত IMEC করিডোরেও অন্তর্ভুক্ত বন্দরগুলিতেও আদানিদের ভূমিকা রয়েছে।

কিন্তু এহেন সময়ে আদানিদের বিরুদ্ধে আমেরিকার অভিযোগ একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গভীর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উসকে দিয়েছে। আমেরিকার এই অভিযোগে আইনি জটিলতা আরও দূর গড়াতে পারে। আর তার জেরেই বড় বড় পরিকাঠামোয় বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। থেমে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সহ কাজ। এমনকি ভারতের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠীর নানা ইউনিটে বিনিয়োগের থেকে মুখ ফেরাতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।

আদানিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ইজরায়েল ও বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থার ক্ষেত্রেও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিনের আঞ্চলিক আধিপত্য ঠেকাতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভারত। অথচ তা জেনেও নিজ পায়েই কুড়ুল মারছে আমেরিকা। তলে তলে আধিপত্য বিস্তার করছে রাশিয়া। গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছে চিনও। অথচ বিশ্বে তাঁদের অবস্থান স্পষ্টতই দুর্বল করেছে আমেরিকা ও ইউরোপ।

চিনের আধিপত্য ও আগ্রাসন রুখতে হলে সুকৌশল নিয়ে ময়দানে নামা উচিত তাদের। বাণিজ্য বৃদ্ধি করে রাজনৈতিক স্বার্থ স্থির করা উচিত। ভারতের আইএমইসি প্রজেক্ট তেমনই সুযোগ। কিন্তু ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ও আইনি মারপ্যাঁচের খেলা খেলতে গিয়ে নিজের পায়ে কুড়ুল মারছে আমেরিকা। যার জেরে শুধু আমেরিকা নয়, ক্ষতি হবে গোটা বিশ্বেরই।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+