চিনে ঊর্ধ্বমুখী করোনা-গ্রাফ, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হল ডিজনিল্যান্ড
চিনে ঊর্ধ্বমুখী করোনা-গ্রাফ, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হল ডিজনিল্যান্ড
কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সে। নিত্যনতুন রূপে আক্রমণ শানাচ্ছে। বিগত দুই বছর ধরে গোটা বিশ্বেই সংক্রমণ ছড়িয়ে বিশাল মহীরুহের আকার নিয়েছে মারণ ভাইরাস করোনা। মাঝেমধ্যে সংক্রমণের হার কিছুটা কমিয়ে আসলেও নতুন রূপে আক্রমণ চালাচ্ছে সে। চিনে নতুন করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট। যার জেরে চিনের একাধিক জায়গায় লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল সাংহাই ডিজনিল্যান্ড। শেনজেনের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়িক কেন্দ্র বেশ কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর খুলতে শুরু করেছে। ঠিক সেইসময়ই বন্ধ হয়ে গেল সাংহাই ডিজনিল্যান্ড।

কড়া করনাবিধি
চিনের জনবহুল অঞ্চলে গত দু'বছরে দ্রুত হারে সংক্রমণ বেড়েছে। ইতিমধ্যে, উত্তর-পূর্বের চাংচুন এবং জিলিন এলাকায় সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার পরে শহরব্যাপী করোনা পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জিলিন এলিকায় করোনা নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা হয়েছে। ওই এলাকার ২ মিলিয়ন, অর্থাৎ প্রায় ২০ লাখ স্থানীয় বাসিন্দাকে হোম কোয়ারেন্টিন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী
সাম্প্রতিক পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েকদিনের লকডাউনে অন্যান্য দেশের তুলনায় এই এলাকায় সংক্রমণ কিছুটা হলেও কমেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে 'জিরো টলারেন্স' কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সংক্রমণকে প্রতিরোধ করতে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সরকার সূত্রে খবর, রবিবার চিনের এর মূল ভূখণ্ডে ২০২৭ টি নতুন সংক্রমনের খবর মিলেছে। ২০২৭ টি সংক্রমনের মধ্যে ১৫৪২টি জিলিন প্রদেশে। যদিও শনিবার সংক্রমণের হার কিছুটা হলেও কম ছিল। সাংহাইয়ের জনসংখ্যা ২৪ মিলিয়ন। সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার কথা বলা হয়েছে। গণপরিবহণ তথা বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্ধ ডিজনিল্যান্ড
ডিজনি কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাংহাই ডিজনিল্যান্ড, ডিজনিটাউন এবং উইশিং স্টার পার্ক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ। সোমবারই, সাংহাইতে ২৪ জনের নতুন করোনা সংক্রমণের কেস নথিভুক্ত হয়েছে। সাংহাইয়ের বাসিন্দারা সোমবার সকালে খালি রাস্তা ও পাতাল রেলের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দায়ী ওমিক্রন
প্রসঙ্গত, গত ২০২১ সালের মাঝামাঝি করোনা প্রায় কমে গেলেও ডিসেম্বর থেকে ফের তা বাড়তে শুরু করে। এবং এই বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোটা বিশ্ব জুড়ে আছড়ে পরে করোনার তৃতীয় ঢেউ। আর তার সৌজন্য অবশ্যই করোনার নতুন প্রজাতি ওমিক্রন। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পৃথিবীকে করোনা মুক্ত ভাবার ভুল যেন না করা হয় বলে দিন দুয়েক আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল 'হু'। আর বলতে বলতেই সেই আশঙ্কা সত্যি করে চিনে ঊর্ধ্বমুখী করোনার গ্রাফ। নতুন করে করোনার এই সংক্রমণের জন্য ওমিক্রণের নতুন স্ট্রেনকেই দায়ী করছেন একটা বড় অংশের গবেষকেরা। চিনের শিল্পনগরী সাংহাইয়ে স্থানীয় এলাকা ও অফিস চত্বরে কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications