UNSC ভারতের প্রস্তাব আফগানিস্তানকে অন্যদেশে সন্ত্রাসী হামলার মঞ্চ করা যাবে না, সহমত নয় রাশিয়া-চিন
UNSC ভারতের প্রস্তাব আফগানিস্তানকে অন্যদেশে সন্ত্রাসী হামলার মঞ্চ করা যাবে না, সহমত নয় রাশিয়া-চিন
আমেরিকান সেনাবাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার সঙ্গেই তালিবান অধ্যুষিত দেশটির সাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ৷ মঙ্গলবার আফগানিস্তানে থাকা আফগান ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি রেজলিউশন নেওয়া হয়েছে UNSC তে। অগাস্টে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের সভাপতিত্বেই এই রেজোলিউশন নেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু খুবই অবাকভাবে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের পক্ষ থেকে আনা এই প্রস্তাবে সম্মতি ভোট দিল না রাশিয়া এবং চিন!

UNSC রেজোলিউশন
মঙ্গলবার ভারতের প্রতিনিধির সভাপতিত্বে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে যাতে তালিবানের উদ্দেশ্যে কতগুলি দাবি তুলে ধরা হয়েছে৷ এক, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কোনো দেশকে হুমকি বা আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। দুই, আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণের জন্য কোনওভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। রেজোলিউশনে আরও বলা হয়েছে, UNSC আশা করে যে নিজের ইচ্ছায় আফগানিস্তান ছাড়তে চাওয়া আফগান এবং বিদেশী নাগরিকদের সে দেশ থেকে নিরাপদে সুরক্ষিতভাবে যেতে দেওয়া ব্যাপারল তালিবানরা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করবে৷

চিন ও রাশিয়া এড়িয়ে গিয়ে রেজোলিউশনটি!
তালিবানরা কাবুল দখলের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে UNSC এই প্রথম কোন রেজোলিউশন নিল। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি টি এস ত্রিমূর্তি বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করছেন৷ মঙ্গলবারই তাঁর সভাপতিত্বের শেষ দিন ছিল৷ UNSC কতৃক গৃহীত এই রেজলিউশনে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সহ ন'টি দেশ সম্মতি জানিয়েছে৷ যদিও চিন এবং রাশিয়া এই রেজোলিউশনটি সম্পূর্ণভানে এড়িয়ে গিয়েছে!

UNSC-তে ভারতের আনা রেজোলিউশনে কেন ভোট দিল না রাশিয়া-চিন?
রাশিয়া এমনিতে ভারতের বন্ধুরাষ্ট্র। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভারত রাশিয়াকে পাশে পেয়েছে৷ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে আমেরিকা-রাশিয়ার দ্বন্দ বহু পুরনো৷ সারা বিশ্বে কাদের দাদাগিরি বেশি চলবে এ নিয়ে রাশিয়া-আমেরিকা ঠান্ডা যুদ্ধ লেগে থাকে৷ আফগানিস্তানে আমেরিকার দাদাগিরি কমাতে তালিবানরা কার্যকরী হতে পারে বলে মনে করছে রাশিয়া। তাই তারা এখনই তালিবান বিরোধিতার রাস্তায় হাঁটতে নারাজ। অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও প্রায় একই কারণে চিনের প্রতিযোগিতা। আবার পকরথম থেকেই তালিবানদের সরাসরি সমর্থণ করে বিশ্ববাসীকে তাদের নিয়ে নতুন করে ভাবর কথা বলে আসছে চিন। এমনকি তালিবানকে অস্ত্র ও অর্থ সাহায্যের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছে চিন এরকমটাও অভিযোগ রয়েছে৷ তবে তালিবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসায় দক্ষিণ এশিয়াতে চিন যে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই স্বাভাবিকভাবে রেজোলিউশনে ভোট দেয়নি চিনও!

আগামীদিনে আফগানিস্তান হয়ে উঠবে ইসলামি মৌলবাদের কেন্দ্রস্থল!
আমেরিকার সেনাবাহিনীর শেষ বিমানটিও আফগানিস্তান ছেড়েছে৷ বোম ফাটিয়ে এই ঘটনার বিজয় উল্লাস করেছে তালিবান সহ আফগানিস্তানের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী!এরপর সারা বিশ্বে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাহিনীর চলে যাওয়ার সঙ্গেই তালিবানের অধীনে আফগানিস্তান ইসলামী মৌলবাদের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠতে পারে। হাক্কানি নেটওয়ার্ক এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইসলামিক স্টেট (খোরাসান) কাবুলে সক্রিয় রয়েছ। যার ফলে আগামীদিনে আফগানিস্তানের মাটি থেকে আন্তর্জাতিক বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি!












Click it and Unblock the Notifications