সংঘর্ষ চলাকালীনই ইজরায়েলকে ২২.৫০ কোটি ডলার সহায়তা আমেরিকার

হামাস জঙ্গিদের হামলার জবাবে গত ২৭ দিন ধরে গাজায় হামলা শানাচ্ছে ইজরায়েল। ইজরায়েলের বোমায় মারা যাচ্ছে নিরীহ মহিলা, শিশু। এর প্রতিবাদে সারা বিশ্বে বিভিন্ন জায়গায় পথে নেমেছে মানুষ। ইজরায়েলের পাল্টা দাবি, সাধারণ বাড়ি, হাসপাতালে গোলাবারুদ নিয়ে লুকিয়ে রয়েছে হামাস জঙ্গিরা। উদ্দেশ্য হল, সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জনমতকে পাশে টানা। আমেরিকা ও ব্রিটেন এই দাবিকে সমর্থন করে বলেছে, নিজেদের রক্ষা করার ষোলো আনা অধিকার আছে ইজরায়েলের। প্যালেস্তিনীয়দের পাল্টা দাবি, গাজায় নিছকই গণহত্যা চালাচ্ছে ইহুদিরা।
এই পরিস্থিতিতে তাদের ২২.৫০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে আমেরিকা।
এই ২২.৫০ কোটি ডলার ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী ব্যবস্থা 'আয়রন ডোম'-কে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এ ভাবে পাশে দাঁড়ানোয় বারাক ওবামাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
আয়রন ডোম কী: প্যালেস্তাইন ভূখণ্ড থেকে হামাস কিংবা লেবানন থেকে হিজবুল্লা জঙ্গিরা যখন-তখন রকেট ছোড়ে ইজরায়েলে। একটা সময় এ ধরনের হামলায় নির্বিচারে মারা যেত নিরীহ ইজরায়েলিরা। তাই রকেট হামলা ঠেকাতে একটা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে ইজরায়েল। ইংরেজিতে একে বলা হয় 'আয়রন ডোম' এবং হিব্রু ভাষায় 'কিপাট বারজেল'।
কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা? 'আয়রন ডোম' হল মোবাইল অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম। এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় গিয়ে যুদ্ধ করতে পারে। গাড়ির ওপর চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। ট্যাঙ্কের মতো চলনশীল। তবে ট্যাঙ্কের মতো সিঙ্গল ব্যারেল বা একনলা নয়, 'আয়রন ডোম' হল মাল্টি ব্যারেল বা বহুনলা। একই সঙ্গে চারটে, দশটা এমনকী তিরিশটা পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায়। রকেট, শেল ও ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) আটকাতে সক্ষম এই 'আয়রন ডোম'। দুশমনরা রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে পাল্টা মিসাইল উড়ে যায় 'আয়রন ডোম' থেকে। আকাশেই গুঁড়িয়ে দেয় সেই রকেট, ক্ষেপণাস্ত্রকে।
২০১১ সালের ২৭ মার্চ 'আয়রন ডোম' চালু হয়। এখন ইজরায়েল সীমান্তের ৭০ কিলোমিটার জুড়ে চালু আছে এই ব্যবস্থা। ইজরায়েলের লক্ষ্য, তা বাড়িয়ে ২৫০ কিলোমিটার করা। এই প্রকল্পেই ২২.৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে আমেরিকা।












Click it and Unblock the Notifications