তীব্র উত্তেজনা! ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ, কী ঘটতে চলেছে?
ভেনেজুয়েলা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই আগামীকাল জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গতকাল নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতির তরফ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন অভিযানের পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্যেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

কলম্বিয়ার অনুরোধে এই জরুরি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিষদের স্থায়ী সদস্য চিন এবং রাশিয়া এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। জানুয়ারি মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে সোমালিয়া (Somalia)। সোমালিয়ার রাষ্ট্রসঙ্ঘ মিশনের মুখপাত্র খাদিজা আহমেদ (Khadija Ahmed) জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ (ভারতীয় সময় বিকেল ৩টা ৩০) এই বৈঠক শুরু হবে।
এদিকে, নিউইয়র্কের জেলে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। গতকাল ভোররাতে বিশেষ বাহিনীর হঠাৎ হানায় দেশ থেকেই তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেই সঙ্গে কারাকাস এবং আশপাশের একাধিক এলাকায় বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসে যুক্ত থাকা, আমেরিকায় কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র, পাশাপাশি মেশিনগান এবং ধ্বংসাত্মক অস্ত্র মজুতের পরিকল্পনা।
এই অভিযানের পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, ভেনেজুয়েলা ধীরে ধীরে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আসছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর যে, মাদুরো দম্পতির বুকিং প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আদালতে তোলার আগে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। খুব তাড়াতাড়িই এই মামলার শুনানি শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন সরকারি বিমানে করে মাদুরোকে প্রথমে একটি সামরিক ঘাঁটিতে নামানো হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে নিউইয়র্কে নিয়ে গিয়ে মাদক পাচার এবং অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় আদালতে তোলার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়। হোয়াইট হাউস এক্স (X)-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে হাতকড়া পরা মাদুরোকে মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট দফতরের ভিতর দিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। সেই ভিডিওতে তাঁকে ইংরেজিতে "হ্যাপি নিউ ইয়ার" বলতে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে আবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি যে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ হয়, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি। ভেনেজুয়েলার উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন যে, এই হামলায় সাধারণ নাগরিক এবং সেনাকর্মীদের মৃত্যু হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি।
সব মিলিয়ে, মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর আন্তর্জাতিক মহলে চাপা উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সোমবারের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।












Click it and Unblock the Notifications