রাশিয়া ইউক্রেন সমস্যা তুঙ্গে, মার্কিন অস্ত্র দিয়েই মহড়া চালাচ্ছে ইউক্রেন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে ইউক্রেনকে সাহায্য করতে শুরু করে দিল আমেরিকা। একসঙ্গে তাদের মহড়ায় অংশ নিতে দেখা গেল। ইউক্রেন সৈন্য মার্কিন অস্ত্র দিয়েই তাদের মহড়া চালাচ্ছে। শুক্রবার ইউক্রেনীয় সৈন্যরা পশ্চিম ইউক্রেনের ইয়াভোরিভ সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ট্যাঙ্ক-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট লঞ্চার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ২০০ মিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা প্যাকেজের অংশ হিসাবে সরবরাহ করা অন্যান্য সামরিক হার্ডওয়্যারও ব্যবহার করে।

রাশিয়া ইউক্রেন সমস্যা তুঙ্গে, মার্কিন অস্ত্র দিয়েই মহড়া চালাচ্ছে ইউক্রেন

দেখা গিয়েছে সৈন্যরা, কিছু সাদা ছদ্মবেশী গিয়ারে, ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। দুই পক্ষের সৈন্যকে দাঁড়িয়ে তা তাপর্যবেক্ষণ করতেও দেখা গিয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহ রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তের কাছে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করার পরে ইউক্রেন মার্কিন সামরিক সহায়তার প্লেনলোড পেয়েছে কারণ এটি সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি বলে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে মস্কো এ ধরনের কোনও আক্রমণের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে এসেছে বারবার।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র আন্দ্রি বেস্তিউক বলেছেন, 'এই অস্ত্রগুলি সামরিক যানবাহন থামাতে, তাদের ক্ষতি করতে এবং শহুরে পরিবেশে শত্রুরা যেখানে লুকিয়ে থাকে সেগুলিকে ধ্বংস করার অনুমতি দেবে।'শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ বলেছেন যে মার্কিন অস্ত্রের পরবর্তী প্লেনলোড শীঘ্রই আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এই সপ্তাহেই ফ্রন্ট ব্রাগ, ক্যারোলিনা থেকে পোলান্ড এবং জার্মানিতে প্রায় দুহাজার সেনা পাঠাতে চলেছে। এবং প্রায় এক হাজার জার্মানি বেস সেনাবাহিনীকে রোমানিয়াতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন বাইডেন প্রশাসনের এক আধিকারিক। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, ইউক্রেনে থাকা কোনও রাশিয়ান গুপ্তচরের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্যে আমেরিকার বাহিনী থাকবে না। তবে ইউক্রেন যাতে নিজেকে রক্ষা করতে পারে সেজন্যে সমরাস্ত্র পাঠানো চালু রাখবে আমেরিকা। এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আমেরিকার এহেন বক্তব্য এমন সময়ে সামনে আসল যখন ইউক্রেনের সীমান্তে ব্যাপক ভাবে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে এই অবস্থায় গোটা ইউরোপ জুড়ে নয়া আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এই অবস্থায় গত কয়েকদিন আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, আমেরিকা রাশিয়াকে যুদ্ধের মধ্যে জড়াতে চায়। এমনকি রাশিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলার কাজে ইউক্রেনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা। এমনটাই অভিযোগ রুশ প্রেসিডেন্টের। তবে সে দেশের দাবি, সংঘর্ষ শুরু করার কোনও রাশিয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। তবে সবটাই সার্ব্জনিক প্রয়াস বলে ব্যাখ্যা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

তবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। কারণ এই মুহূর্তে ইউক্রেনের সীমান্তে প্রায় ১০০,০০০ সেনা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে রাশিয়ার তরফে। পালটা প্রস্তুতি রাখা হয়েছে আমেরিকার তরফেও। জানা যাচ্ছে, আমেরিকা আগে থেকেই ইউরোপে ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার সেনা-জওয়ানকে হাই অ্যালার্টে রেখেছে। পোলান্ড সহ একাধিক জায়গাতে রটেশনে রয়েছে বাহিনী। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ সহ ফাইটার জেটগুলিকেও হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে কোথাও যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছেই বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+