রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত: শান্ত হোক পরিস্থিতি আর্জি মোদীর, কী প্রতিক্রিয়া পুতিনের
রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত: শান্ত হোক পরিস্থিতি আর্জি মোদীর, কী প্রতিক্রিয়া পুতিনের
যুদ্ধের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে রাশিয়া! ভয়ে নিরাপত্তার অভাবে ইউক্রেনবাসী যাচ্ছে অন্য জায়াগায়। শুধুমাত্র নিজেরদের জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে। শত শত শিশু সহ নারী পায়ে হেঁটে হাঙ্গেরির পথে মানুষ। ক্ষুধা, তৃষ্ণায় ভরা মুখ গুলো আজ সত্যিই বড় কষ্ট দায়ক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, দয়া করে আপনি হিংসা,আক্রমণ বন্ধ করুন। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যাতে পরিস্থিতি শান্ত করা যায় তারই আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও ন্যাটো গ্রুপের মধ্যে মতপার্থক্য কেবলমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী কী বললেন
রুশ প্রেসিডেন্টকে নমো বলেন, যেসব ভারতীয় নাগরিক ইউক্রেনে আছেন বিশেষত পড়ুয়ারা তাঁদের নিরাপত্তার জন্য আর্জি জানান। অপরদিকে, ইউক্রেনের পরিস্থিতির কথাও মোদীকে জানান পুতিন। তবে, ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে যে কঠিন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটবে বলে রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে আশা রাখেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, ফোনে প্রায় আধ ঘণ্টার কাছাকাছি তাঁদের দু'জনের কথা হয়। আটকে থাকা ভারতীয় ও পড়ুয়াদের বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে বসেছিলেন মোদী
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে বসেছিলেন মোদী। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মারিউপোল ও ওডেসারের তীরে রাশিয়ান নৌবাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। লক্ষ্য যেন স্থির থাকে লক্ষ্যভেদ না হয় আর ঠিক রাখতেই রাশিয়া কিন্তু উন্নতমানের অস্ত্র ব্যবহার করছে। আর এই কঠিন সময়ে ভারত কিন্তু চুপ করে বসে থাকতে পারছে না।

প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি কী জানালেন
এই ঘটনায় ভারতের প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি জানিয়েছেন, রাশিয়ে যেন ইউক্রেনের ওপর আক্রমন থামায়। তিনি আবেদন করে বলেন যুদ্ধে না গিয়ে সমস্ত পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা হোক। কারণ, ভারত মনে করছে রাশিয়া ইউক্রেনের সমস্যা শান্তিপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে করা যাবে।

জয়শঙ্কর মত কী
বিদেশ মন্ত্রী জয়শঙ্কর ফ্রান্সে বলেছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সমস্যাকে বিরোধিতাও করেনা ও সমর্থনও করে না। দেশ কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়।

চুপ থাকেননি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ
টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্স মানে সশস্ত্র সামরিক রিজার্ভ সেনাবাহিনী। এর অর্থ হল সামরিক ও বেসামরিক কাযকলাপগুলি ধারণ করা। যদি কোথাও যুদ্ধ লাগে আর সেখানে যদি জনবলের প্রয়োজন হয় তাহলে কিন্তু সামরিক বাহিনীতে তাঁরা প্রধান ভূমিকা পালন করে। যদি কেউ হাতে অস্ত্র তুলে প্রস্তুত ও বা সক্ষম হন তাঁরা এই টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্সে যোগ দিতে পারেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ।

জো বাইডেন ঘটনায় মুখ খোলেন
অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কিন্তু এমন আদেশের তীব্র নিন্দা করেছেন। আর রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাব দিতে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবেন।

যুদ্ধে মদত পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার
কঠিন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের রাজধানী কিইভের বাসিন্দারা পালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে অন্য স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। যখন রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেছিলেন এই যুদ্ধে কিন্তু ইউক্রেন জিতবেই।
ভারত কিন্তু রাশিয়া চিনের অক্ষ নিয়ে বিরাট চিন্তিত। কারণ, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার লক্ষ্য তাদের। চিন ও পাকিস্তানের ওপর হামলা প্রতিরোধ করার জন্যই এমন ভাবনা তাদের।

তেলের দামের পতন
২০১৪ সালে যে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের শুরু হয়েছিল, তাতে কিন্তু ভারত কিন্তু মনে করেন এতে মস্কো কিন্তু বেইজিংয়ের খুব কাছাকাছি আসছে। চিন আর রাশিয়ার আধা জোটের পরেই এটা সম্ভব হয়েছে। সেই সময় কিন্তু তেলের দামের পতন হয়েছিল।

ইউক্রেনে এখনও আটকে রয়েছে ১৬ হাজার মানুষ
ভারতের আরও একটি উদ্বেগের বিষয় হল অনেক ভারতীয় মেডিক্যাল পড়ুয়া ইউক্রেনে আটকে আছে। ইতিমধ্যে কিন্তু কিয়েভের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিয়েভের ভারতীয় দূতাবাস থেকে জানা গিয়েছে, ইউক্রেনে এখনও আটকে রয়েছে ১৬ হাজার মানুষ, সরকারি তথ্য অনুসারে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার পড়ুয়ারা সুস্থ অবস্থায় ফিরেছেন। সরকার প্রতিবেশি দেশ পোল্যান্ড, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকে যেতে সাহায্য করছে। কবে শান্ত হবে পরিবেশ, থামবে রুশেদের খটমট বুটের শব্দ,থামবে সাইরেনের শব্দ, সেদিকেই ললুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ইউক্রেনবাসী।












Click it and Unblock the Notifications