বন্ধুর মাথায় স্পেস স্টেশন ভেঙে পড়তে পারে! ভারতকে উদ্দেশ্য করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
বন্ধুর মাথায় স্পেস স্টেশন ভেঙে পড়তে পারে! ভারতকে উদ্দেশ্য করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী ভোরবেলা নাগাদ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার কথা ঘোষণা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর সেই সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ পরিস্তিতি দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু এরই মাঝে নিজের অবস্থান বুঝিয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে ভারত। কারণ একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যদিকে রাশিয়া, দুটিই ভারতের মিত্র দেশ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি ভারতের পক্ষেই থেকেছে রাশিয়া। অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তিতে নয়া দিল্লির পাশেই থেকেছে মস্কো। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। একদিকে আমেরিকা এবং অন্যদিকে রাশিয়া, বিশ্বের মহাশক্তিশালী দুই দেশ একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িয়ে। আর এখানেই হয়েছে ভারতের উভয় সংকট। কিন্তু এতক্ষণ তাও ঠিক ছিল, এবার সরাসরি ভারতকেই হুঁশিয়ারি দিল রাশিয়া!

এবার যুদ্ধ অন্তরীক্ষে
স্থল ছিল, জল ছিল, মায় আকাশও ছিল, যেখানে গোলাগুলির লড়াই থেকে `দুর্ধর্ষ দুশমন`কে কুপোকাত করা, সবই চলছিল অবাধে। কিন্তু এবার সেই লড়াইয়ের কুরুক্ষেত্র এবার পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশেও উঠে গেল! সেনা বাহিনীর লড়াই এবার হতে চলেছে মহাকাশে, অন্তত এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের মহানির্দেশক দিমিত্রি রোগোজিন। আর তাঁর টুইট ঘিরে ইতিমধ্যেই মহা শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিশ্ব জুড়ে। আর যার ফলে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের কপালেও।

দিমিত্রির টুইট
রাশিয়া মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের মহানির্দেশক দিমিত্রি রোগোজিন শুক্রবার টুইট করেছেন প্রচ্ছন্ন রুশ ভাষায়। তিনি লিখেছেন, `আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র রাশিয়ার উপর দিয়ে ওড়ে না।` পাশাপাশি তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে বলেছে, `আপনাদের ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার টনের আবর্জনা ছড়িয়ে রেখেছে মহাকাশে। সেই আবর্জনার ৫০০ টন ভেঙে ভারত বা চিনের উপরেও পড়তে পারে। আপনারা কি সেই সম্ভাবনা তৈরি করবেন?` পাশাপাশি তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, `আপনারা যদি আমাদের সঙ্গে মহাকাশ বিষয়ে সহযোগিতা বন্ধ করতে চান তাহলে `আইএসএস` আমেরিকা বা ইউরোপের উপর ভেঙে পড়া থেকে কে আটকাবে? আপনারা কি এর জন্য তৈরি আছেন?`

বাইডেনের জবাব
অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবিষয়ে সরাসরি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, `আমরা রাশিয়ার উচ্চ প্রযুক্তির নানা দ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব। আর যার ফলে রাশিয়ার সেনা আধুনিকীকরণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উন্নতি রদ করবে। পাশাপাশি এতে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণাও আঘাতপ্রাপ্ত হবে।` প্রসঙ্গত, হাজার বোঝানোর পরেও ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান একদমই ভালো ভাবে নেয়নি আমেরিকা। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উপর একগুচ্ছ নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এমনকি রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র। আর তাতেই রেগে আগুন রাশিয়া।

ভারতের অবস্থান
তবে এরই মধ্যে শাঁখের করাত অবস্থা ভারতের, এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে এক্ষেত্রে এই হুঁশিয়ারির যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে প্রায় সব বিশেষজ্ঞদেরই মত, ঝোঁকের বসে দেওয়া রাশিয়ার এই হুমকি আদৌ কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। প্রথমত, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যে মহাকাশচারী রা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে মার্কিন বিজ্ঞানী, দুই জন রাশিয়ার এবং একজন জার্মান বিজ্ঞানী তথা মহাকাশচারী। তাই রাশিয়ার যে কোনও পদক্ষেপেই ভাড়ি মূল্য চোকাতে হতে পারে পুতিন সরকারকে। দ্বিতীয়ত, শুধুমাত্র নাসা নয়, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের সহযোগিতায় রাশিয়াও তাদের মহাকাশ গবেষণার প্রায় সব কাজ চালায়। তাই তাদের কোনও কাজে আখেরে উল্টে ক্ষতি রাশিয়ারই। তৃতীয়ত এবং সবথেকে উল্লেখযোগ্য, `ভারত যা আজ ভাবে` থিওরি যদি মানা হয় তাহলে ইতমধ্যেই সরাসরি অন্তরীক্ষ থেকেও যদি দেশের উপর কেউ আক্রমণ শানে তাহলে সেই বিপদ অন্তরীক্ষেই প্রতিহত করার মত অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে ভারতের ভাণ্ডারে। কিন্তু এই মুহূর্তে রাশিয়ার কী গতিবিধি সেইদিকেই নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।












Click it and Unblock the Notifications