রুশ অভিযানের পর নতুন করে কৃষিপণ্য রফতানি শুরু, বন্দর ছাড়ল ইউক্রেনের বাণিজ্যিক জাহাজ
রুশ অভিযানের পর নতুন করে কৃষিপণ্য রফতানি শুরু, বন্দর ছাড়ল ইউক্রেনের বাণিজ্যিক জাহাজ
কৃষ্ণ সাগর ব্যবহার করে ইউক্রেন ফের খাদ্যপণ্য রফতানি শুরু করল। খাদ্যপণ্য বোঝাই জাহাজ ইতিমধ্যে ইউক্রেনের বন্দর ছেড়ে লেবাননের উদ্দেশে রহনা দিয়েছে। রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে ইউক্রেনের খাদ্যপণ্য রফতানি বন্ধ ছিল। যার ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তুরস্কে রাষ্ট্রসংঘের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি করে। চুক্তির মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেন নতুন করে কৃষিপণ্য রফতানির সুযোগ পায়।

নতুন করে কৃষিপণ্য রফতানি শুরু ইউক্রেনের
২৬,০০০ টন ভুট্টা বোঝাই ইউক্রেনের বাণিজ্যিক জাহাজ ইতিমধ্যে ওডেসা বন্দর ছেড়েছে। জাহাজটি লেবাননের দিকে রহনা দিয়েছে। মঙ্গলবার বাণিজ্যিক জাহাজটি ইস্তানবুলের বন্দরে পৌঁছবে। সেখানে পরিদর্শনের পর বাণিজ্যিক জাহাজটি ফের লেবাননের উদ্দেশে যাবে। ফেব্রুয়ারি মাসে রুশ অভিযান শুরুর পর এই প্রথম ইউক্রেনের বাণিজ্যিক জাহাজ রফতানির জন্য কৃষ্ণসাগর ব্যবহার করছে। রুশ অভিযানের জেরে ইউক্রেনের পরিকাঠামো ভেঙে গিয়েছে। আগের থেকে ইউ্রেনের রফতানির পরিমাণ অনেকটা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রফতানির পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা
যুদ্ধের আবহের জেরে আগের মতো কৃষিপণ্য ইউক্রেন রফতানি করতে পারবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, আগের মতো গম, বার্লি, ভুট্টা ইউক্রেন রফতানি করতে পারবে না। যুদ্ধের কারণে অনেক ফষল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ কৃষিপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পরিমাণ মতো রফতানি করতে না পারলে, একাধিক দেশে কৃষিপণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে খাবারের দাম বাড়বে। ইতিমধ্যে অনেক দেশেই খাবারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রফতানির পরিমাণ আগের অবস্থায় ফিরতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গম, ভুট্টা, বার্লি মৌসুমি ফসল। যুদ্ধের ফলে মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের এই রফতানির পরিমাণ আগের অর্ধেক হয়ে যাবে।

বিশ্বের জন্য স্বস্তির খবর
রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর ইউক্রেনের ওডেসার অধীনে চোরনোমর্স্ক বন্দরের কাজ বন্ধ ছিল। শুক্রবার চোরনোমর্স্ক বন্দরে মাল বোঝাইয়ের কাজ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজে পরিদর্শন করেন। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী টুইটারে লেখেন, বিশ্বের জন্য স্বস্তির দিন। পুনরায় কৃষিপণ্য রফতানি শুরু হওয়ায় বিশ্ব বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। তিনি বলেন, ইউক্রেন বরাবর একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার ছিল। রাশিয়া যদি চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে, সেক্ষেত্রে ইউক্রেন নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবেই নিজেদের ধরে রাখবে।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার চুক্তি
রুশ আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এরপরেই বিশ্বকে রাষ্ট্রসংঘ সতর্ক করে জানায়, খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে চলতি বছরের শেষের দিকে। আগামী বছরে বিশ্বে খাদ্যসঙ্কট প্রবল আকার ধারণ করবে। পশ্চিমি দেশগুলো খাদ্য সঙ্কটের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে। এরপরেই তুরস্কের ইস্তানবুলে রাষ্ট্রসংঘের আধিকারিকদের উপস্থিতি ইউক্রেন ও রাশিয়া চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। সেখানে বলা হয়, ইউক্রেনের বাণিজ্য জাহাজে মাল বোঝাই ও কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানির সময় রাশিয়া কোনও রকম হামলা করবে না। কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের তিনটি বন্দরে হামলা থেকে রাশিয়া বিরত থাকবে। এই চুক্তি ১২০ দিনের। তারপর এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে রাষ্ট্রসংঘ আশা প্রকাশ করেছে।

অর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা
রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জেরে ইউক্রেনের অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। দেশের ১৪ শতাংশ নাগরিক কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ইউক্রেনে বিপর্যস্ত কৃষকদের জন্য এটি অত্যন্ত সুখবর। এরফলে কৃষকরা লভ্যাংশ থেকে নতুন করে কৃষিকাজ শুরু করতে পারবে। কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে। বিশ্বে মোট গম রফতানির এক তৃতীয়াংশ ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে হতো। অন্যদিকে, ভুট্টা ও বার্লি ইউক্রেন সব থেকে রফতানি করে।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications