ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের পর ইউক্রেনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল যুক্তরাজ্য, স্বাক্ষরিত হল ঋণ চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ক এই মুহুর্তে তিক্ততায় পরিণত হয়েছে। সম্পর্ক প্রায় তলানিতে ঠেকেছে বললেই চলে। এমন সময় যুক্তরাষ্ট্র যে কোনও সাহায্য করবে না ইউক্রেনকে তা এক প্রকার নিশ্চিত। তাই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাহায্য চাইলেনও না ট্রাম্পের কাছে। বরঞ্চ তিনি সেই জায়গায় সাহায্য পেলেন যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের মধ্যে ২.২৬ বিলিয়ন পাউন্ড (২.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কূটনৈতিক মতবিরোধে জড়িয়েছেন।

এই ঋণের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা রাশিয়ান সম্পদের লাভ থেকে ফেরত দেওয়া হবে, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও মজবুত করবে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এবং ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী সের্গেই মার্চেনকো। জানা গেছে, এই ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ আগামী সপ্তাহেই ইউক্রেনে পৌঁছাবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার শনিবার লন্ডনে জেলেনস্কিকে স্বাগত জানান এবং তার প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে জেলেনস্কি পৌঁছালে, তাকে উচ্ছ্বসিত জনতার অভিনন্দন জানানোর দৃশ্য দেখা যায়।
স্টারমার জেলেনস্কিকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, "যুক্তরাজ্য আপনার পাশে রয়েছে, আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি, যতদিন প্রয়োজন ততদিন"।
বৈঠকের পর, যুক্তরাজ্য ঘোষণা করেছে যে তারা জি-৭ গ্রুপের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজে ২.২৬ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার সাথেই বলেন, "এই ঋণের অর্থ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াবে এবং এটি জমা থাকা রাশিয়ান সম্পদের রাজস্ব থেকে পরিশোধ করা হবে। যিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন, তাকেই এর মূল্য দিতে হবে"।
জেলেনস্কি আরও বলেন, "যুক্তরাজ্যের জনগণ ও সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমরা এমন কৌশলগত অংশীদার পেয়ে আনন্দিত, যারা নিরাপদ ভবিষ্যতের একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে"।
এই ঋণ চুক্তি ইউক্রেনের সামরিক শক্তি আরও দৃঢ় করবে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করবে। যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications