২৩০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন মাওয়ার, সাগর উপকূলে চলছে তাণ্ডবলীলা
মহাসাগরের বুকে সুপার সাইক্লোনের মতোই শক্তিশালী ঝড় ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলিতে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে যাচ্ছে সুপার টাইফুন মাওয়ার নামের ওই বিধ্বংসী ঝড়। মাওয়ার ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে। আর কখনও কখনও তা ২৩০ কিলোমিটারে পৌঁছে যাচ্ছে।
ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে মাওয়ার। তা অগ্রসর হচ্ছে ফিলিফিন্সের দিকে। আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, টাইফুন প্রশান্ত মহাসাগর লাগোয়া গুয়ামে তাণ্ডব চালিয়েছে। টাইফুনের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি এবং প্রবল বেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে। টাইফুন মাওয়ারের জেরে গুয়ামের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

টাইফুন মাওয়ার ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে গুয়ামের উপকূলে। একাধিক গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের একেবারে ওলটপালট অবস্থা। প্রবল বৃষ্টির জেরে গুয়ামের একাধিক রাস্তা জলের তলা গিয়েছে। বানভাসি অবস্থা গুয়ামের।
মার্কিন যুক্তিরাষ্ট্রের এই ভূখণ্ড প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৫২ হাজার বাড়ি-ঘর রয়েছে। সেগুলির মধ্যে ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে গিয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় সবাই সুরক্ষিত রয়েছেন। গুয়ামের হেমল্যান্ড সিকিউরিটির তরফে জানানো হয়েছে উপকূল এলাকায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে দুর্গত মানুষদের।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গুয়ামে বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানোর কাজ চলছে। সবার আগে হাসপাতাল ও পানীয় জল সরবরাহ কেন্দ্রেগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অন্য ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। টাইফুন মাওয়ারের পূর্বাভাস ছিলই। সেই হেতু আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেই প্রাণহানি ঘটেনি।
গুয়ামের পরে ফিলিপিন্সে টাইফুনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একবার আছড়ে পড়ে সেভাবে শক্তি হারায়নি মাওয়ার। এখনও ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসছে ঝড়। সেই ঝড় আরও শক্তি বাড়বে বলেই পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। ফলে তা আবার সুপার টাইফুনের রূপ নিতে চলেছে্।

আবহবিদরা জানিয়েছেন, ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে সুপার টাইফুন মাওয়ার। গুয়াম পেরিয়ে তা ফিলিপিন্সকে টার্গেট করেছে। গুয়ামে আছড়ে পড়ার পরও তার শক্তিক্ষয় হয়নি। বাতাসের হারানো গতিবেগ ফের উদ্ধার করে সে ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুক চিরে তা এখন আছড়ে পড়বে ফিলিপিন্সে। প্রশানত তৎপর উপকূল এলাকা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিতে।












Click it and Unblock the Notifications