লাদেন হত্যার অভিযানের ব্লু প্রিন্ট ব্যবহার হয় জাওয়াহিরি ক্ষেত্রে! কী বলছে বিশেষজ্ঞ মহল
লাদেন হত্যার অভিযানের ব্লু প্রিন্ট ব্যবহার হয় জাওয়াহিরি ক্ষেত্রে! কী বলছে বিশেষজ্ঞ মহল
টুইটার ও ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডো বাইডেন আল কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। আফগানিস্তানের কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় জাওয়াহিরি নিহত হয়েছে। বাইডেন জানান, গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা চলে। তারপরেই তিনি এই অভিযানের নির্দেশ দেন। আন্তর্জাতিক মহল এই অভিযানের সঙ্গে ২০১১ সালে আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার অভিযানের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন। নাটকীয়ভাবে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে হত্যা করে মার্কিন প্রশাসন। দুই ক্ষেত্রেই অন্য দেশের ভিতরে প্রবেশ অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী নিরাপদে ফিরে আসে।

জাওয়াহিরিকে হত্যার অভিযান
আফগানিস্তানের কাবুলে আল কায়দার প্রধান জাওয়াহিরিকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। ড্রোন হামলায় তাঁকে হত্যা করা হয়। লাদেনের পর তিনি আল কায়েদার দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ৩১ জুলাই জাওয়াহিরি নিজের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। যদিও সেই সময় তাঁর সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কারও কোনও ক্ষতি হয়নি বলেই মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে এক বছর আগেই সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন জো বাইডেন। তাই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই অভিযান চালানো হয়। জানা যায়, একাধিক দিক পর্যালোচনা করার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই অভিযানের সম্মতি দিয়েছিলেন।

লাদেনকে হত্যা অভিযানের সঙ্গে অদ্ভুত সাদৃশ্য
জাওয়াহিরির মতো লাদেনকে হত্যার সময় একইভাবে অভিযান চালানো হয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের খুব কাছে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন হেলিকপ্টার ও সেনাদের একটি দল রাতের অন্ধকারে অভিযান চালায়। রোমহর্ষক অভিযানে সেনারা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। তবে অনেকেই মনে করছেন, জাওয়াহিরিকে হত্যার অভিযানের থেকে লাদেনকে হত্যার অভিযানের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি ছিল। মার্কিন সেনাবাহিনী শুধু লাদেনকে হত্যা করেনি, তাঁর দেহটা আমেরিকায় উড়িয়ে এনেছিল। সঙ্গে এনেছিল একাধিক নথি, সিডি। জানা যায় অ্যাবেটাবাদে অন্তত পাঁচ বছর পরিবারের গুটি কয়েক সদস্যের সঙ্গে নিভৃতে বাস করছিলেন লাদেন। পরে লাদেনের দেহ সমুদ্রে কবর দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই সময়ও লাদেন ছাড়া পরিবারের অন্য কেউ নিহত হননি বলে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন।

দু’জনেই ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা বা জো বাইডেন দুজনেই ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রেসিডেন্ট। দুজনেই ৯/১১ হামলার প্রধান ষড়যন্ত্রকারীদের হত্যার জন্য বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। লাদেনকে হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর জঙ্গি নেতা ছিলেন লাদেন। লাদেনকে হত্যার পরেই জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ওবামা। তিনি বলেছিলেন, ১০ বছর আগে আমেরিকা লাদেনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল। প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের আত্মা শান্তি পাবেন। লাদেনকে হত্যার পরিকল্পনার মতো জাওয়াহিরিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আর এক ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আফগানিস্তানে তালিব শাসনের মধ্যেই এই অভিযান চালানো যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন আধিকারিকরা জানান, ১ জুলাই এই অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরপরেই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে ১ জুলাই বাড়িটির ভৌগলিক মডেল ব্যবহার করে জো বাইডেনের কাছে উপস্থাপন করা হয় পরিকল্পনাটি। ২৫ জুলাই করোনায় অসুস্থ থাকার সময়েই এই অভিযানের নির্দেশ দেন জো বাইডেন।

অভিযানের প্রতিকূলতা
২০১১ সালে যখন লাদেনকে হত্যা করার অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে বারাক ওবামাকে পাকিস্তানের মাটিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন। তিনি ওবামার পাকিস্তানের মাটিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কারণও অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িতে লাদেন থাকার কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু নিশ্চিত হওয়া মতো র সেরকম তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে। লাদেন ওই বাড়িতে না থাকলে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। তবে ওবামা নিজের সিদ্ধান্তে স্থির ছিলেন। অন্য দিকে, তালিবান সরকারের সঙ্গে আমেরিকার কূটনীতিক সম্পর্ক নেই বললেই চলে। এছাড়াও জাওয়াহিরিকে ওই বাড়িতে স্পষ্ট করে চিহ্নিত করা গিয়েছিল। তারপরেও তিনি সেখানে সেনা পাঠাতে সম্মত হননি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকলের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications