ভারত পাক ম্যাচ পরবর্তী উত্তেজনা বাড়ছে ব্রিটেনে, শান্তির বার্তা দিয়ে বিবৃতি জারি উভয় সম্প্রদায়ের নেতাদের
ব্রিটেনের লিসেস্টারের হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের নেতারা আজ একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে হিংসার একটি চক্রের অবসানের জন্য আবেদন করেছেন। গত মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এশিয়া কাপ ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে এই অশান্তির শুরু হয়েছিল। পড়ে সেই সমস্যা গত সপ্তাহে বেড়েছে। তা নিয়েই এই এক বিশেষ বিবৃতি জারি করেন তাঁরা।

যৌথ বিবৃতি
যৌথ বিবৃতির পড়ে এক নেতা বলেছেন, "আমরা, লিসেস্টারের পরিবার, শুধু হিন্দু ও মুসলমান নয়, ভাই ও বোন হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।" তিনি জোর দিয়েছিলেন যে লেস্টারে "কোন বিদেশী চরমপন্থী মতাদর্শের জন্য কোনও স্থান নেই যা বিভাজন সৃষ্টি করে।"

কী বলছেন নেতা?
ওই নেতা আরও বলেন, "আমাদের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই অজানা অচেনা শহরে আসবার পর থেকে আজ কেটে গিয়েছে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়। আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই। আমরা একসঙ্গে একইভাবে বসবাস করছি। আমরা একসাথে এই শহরে এসেছি। আমরা একসাথে একই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি। আমরা একসাথে বর্ণবাদী বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এবং সম্মিলিতভাবে এই শহরটিকে বৈচিত্র্য এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে দিয়ে ঐক্যের বার্তা দিয়েছি।"
তিনি যোগ করেছেন যে, "আমাদের উভয় সম্প্রদায় উত্তেজনা ও হিংসার যে ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে দুঃখিত এবং হৃদয়বিদারক বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। যা ঘটেছে তা শালীন সমাজের অংশ নয় বলে আমরা মনে করি। আমরা যা দেখেছি তা ঠিক নয়। আমরা সকলকে বলছি যে ধর্মীয় স্থান, মসজিদ এবং মন্দির উভয়ের পবিত্রতাকে সমানভাবে সম্মান করার জন্য।" তিনি যোগ করেছেন, "আমরা সবাইকে বলেছি উচ্চস্বরে সঙ্গীত, পতাকা বহন, অবমাননাকর স্লোগান বা উপাসনার বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণে উস্কানি না দেওয়ার জন্য।"

পুলিশ কী বলেছে?
পুলিশ বলেছে যে তারা পূর্ব ইংল্যান্ডের শহরে আরও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করতে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ২৮অগাস্ট ক্রিকেট ম্যাচের পরে এই উত্তেজনা শুরু হয়েছিল, যেটিতে ভারত পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল। এরপর সোশ্যাল মাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে ধর্মীয় স্থানগুলির নাকি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর শনিবার ও রবিবার বিক্ষুব্ধ স্লোগানসহ বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।"

আক্রমণাত্মক অস্ত্র
পুলিশ আজ জানিয়েছে যে সংঘর্ষের সময় একটি আক্রমণাত্মক অস্ত্র রাখার জন্য দোষী সাব্যস্ত করার পরে ২০ বছর বয়সী একজনকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। লিসেস্টারশায়ার পুলিশের অস্থায়ী চিফ কনস্টেবল রব নিক্সন বলেছেন, "যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন শহরের বাইরে থেকে এসেছে, যার মধ্যে বার্মিংহামের কিছু লোক রয়েছে।" লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশন লিসেস্টারে একটি মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছিল। মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা কিছু হিন্দু গোষ্ঠীর একটি সমাবেশকে "উস্কানিমূলক" এবং "অপমানজনক" বলে উল্লেখ করে।












Click it and Unblock the Notifications