ট্রাম্প শুল্ক আরোপ স্থগিত করতেই, মেক্সিকোর সীমান্তে মোতায়েন হল ১০ হাজার সেনা, কী হতে চলেছে সেখানে?
ডোনাল্ড ট্রাম্প কী ভাবছেন মেক্সিকো নিয়ে? কি হবে আগামীদিনে মেক্সিকোর ভবিষ্যৎ? এইসবই এখন ভাবাচ্ছে কূটনীতিকদের। কেননা, এবার মেক্সিকো তার উত্তর সীমান্তে ১০,০০০ অফিসার মোতায়েন করেছে, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির পর নেওয়া একটি বড় পদক্ষেপ। টেক্সাসের এল পাসো ও সিউদাদ জুয়ারেজ সীমান্তে মেক্সিকান ন্যাশনাল গার্ড এবং সেনাবাহিনীর সাজোঁয়া গাড়ি দীর্ঘ সারি দিয়ে অপেক্ষা করছে।
তিজুয়ানা ও অন্যান্য সীমান্ত অঞ্চলেও সেনাবাহিনীর কঠোর টহলদারি চলছে। মুখোশধারী ও সশস্ত্র ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা সিউদাদ জুয়ারেজের সীমান্ত এলাকা পাহারা দিচ্ছেন। একই সাথে পরিখায় অবৈধ ভাবে থাকা মই ও দড়ি উদ্ধার করে তা গাড়িতে তুলে নিচ্ছেন তারা। কার্যত গোটা এলাকা জুড়ে রয়েছে থমথমে পরিবেশ।

এই সেনা মোতায়েন এমন সময়ে হল যখন ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি অন্তত এক মাসের জন্য মেক্সিকোর উপর শুল্ক আরোপ স্থগিত রাখছেন। এর বিনিময়ে, মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ফেন্টানাইল চোরাচালান বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এর প্রভাব পড়েছে মেক্সিকোর অন্দরে।
যদিও অভিবাসনের হার ও ফেন্টানাইল অতিরিক্ত ব্যবহারের ঘটনা আগের চেয়ে কমেছে, তবুও ট্রাম্প সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা মেক্সিকোতে আমেরিকান বন্দুক পাচার রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে, কেননা দেশটি জুড়ে কার্টেল হিংসা ক্রমশ বেড়েই চলেছে এর কারণে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর হাতে তা রোধ করতে এবার বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার, নতুন বাহিনীর প্রথম দলটি সরকারি বিমানে করে সীমান্ত শহরগুলোতে পৌঁছায় এবং বুধবার থেকে তারা সক্রিয় টহলদারি শুরু করে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিউদাদ জুয়ারেজে অন্তত ১,৬৫০ জন এবং তিজুয়ানাতে ১,৯৪৯ জন অফিসার মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ল্যাটিন আমেরিকা সফরের সময়, শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক মেক্সিকোর এই পদক্ষেপের জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম তার কৌশলে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। অনেকে সন্দেহ করছিলেন যে তিনি তার পূর্বসূরী আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডোরের মতো ট্রাম্পের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সামলাতে পারবেন কি না। তবে এই সিদ্ধান্তে তিনি তার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেছেন। আপাতত মেক্সিকোর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেই, সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications