চারবার ফোন করেছেন, ধরেননি মোদী! অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে ভারতকে চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টে বেকায়দায় ট্রাম্পই
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বিবাদ চরমে উঠেছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে চারবার কথা বলার চেষ্টা করলেও মোদী কথাই বলেননি বলে জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ মোদীকে চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টে নিজেই বেকায়দায় ট্রাম্প।
জার্মান সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার অলগেমাইন জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে অন্তত চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ফোনে সাড়াই দেননি।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের পরও এই যোগাযোগের প্রচেষ্টা চালানো হয়। এই শুল্ক ব্রাজিল ব্যতীত অন্য যেকোনও দেশের জন্য সর্বোচ্চ। দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ট্রাম্পের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের অভিযোগ এবং রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর খারাপ হয়েছে। তার ফল ভারত পাবে নাকি আমেরিকা তা সময়ই বলবে।
এর আগে জুলাইয়ের শেষে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করবে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তারা তাদের মৃত অর্থনীতিকে একসঙ্গে ডুবিয়ে দিতে পারে।” এর প্রতিক্রিয়ায়, ১০ই অগাস্ট মোদী ট্রাম্পের 'মৃত অর্থনীতি’ মন্তব্যের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত করে বলেন যে ভারত বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির একটি হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জার্মান সংবাদপত্রের মতে, ট্রাম্পের পাকামি মোদীর আঁতে ঘা দিয়েছে। ট্রাম্প সাধারণত অন্য দেশের মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরতাকে কাজে লাগান, কিন্তু মোদীকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে নিজেই সম্ভবত হিট উইকেট হওয়ার পথে ট্রাম্প। মোদী পাল্টা ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখবেন বলে বার্তাও দিয়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্প এর আগে কোনও চুক্তি না হওয়া সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে ভিয়েতনামের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পরে আধিকারিকেরা সেই বিপত্তি কোনওমতে সামাল দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী একই ফাঁদে পা দিতে চান না। ফলে মোদীকে বাগে আনার কৌশল আপাতত ব্যর্থ ট্রাম্পের।
বাণিজ্য চুক্তির আগে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ও ট্রাম্প আবোলতাবোল দাবি করে সমস্যা তৈরি করেছিলেন। সামরিক সংঘাতের মাঝে তাঁর কথাতেই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করায় ভারত তখনও সরাসরি প্রতিবাদ জানায়। এখন সমস্যা তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ নিয়ে।
ঘটনা হল, এই সপ্তাহের শেষের দিকে মোদী চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেখানে থাকবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনও। ফলে ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ভারত নিজের গতিপথ নিজেই তৈরি করে ফেলছে।












Click it and Unblock the Notifications