এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার ট্রাম্পের, দাবি সম্পূর্ণ নির্দোষ
মার্কিন রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিন। শিশু যৌন অপরাধে দণ্ডিত এপস্টিনের সঙ্গে কোনও ধরনের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে তিনি "সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি" পেয়েছেন ও লুকোনোর মতো তাঁর কিছুই নেই।
মঙ্গলবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। "আমি পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই," জোর গলায় এমনটাই জানান তিনি। এমনকি তিনি দাবি করেন, এক সময় এপস্টিন নাকি তাঁর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিরোধিতাও করেছিলেন।

এদিকে, মার্কিন বিচার দপ্তর ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস সম্প্রতি এপস্টিন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তিন মিলিয়নেরও বেশি অতিরিক্ত পৃষ্ঠার নথি জনসমক্ষে আনা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার ভিডিও ও এক লক্ষ আশি হাজারেরও বেশি ছবি রয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারি ভাবে প্রকাশিত নথির পরিমাণ এখন প্রায় ৩৫ লক্ষ পৃষ্ঠায় পৌঁছেছে।
এই নথি প্রকাশের পর ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল? গত বছরের ডিসেম্বরেও বিচার দপ্তর এক দফা নথি প্রকাশ করেছিল। সেই দফায় প্রকাশিত একটি ছবিতে ট্রাম্পকে দেখা যায়। তবে ছবি প্রকাশের এক দিনের মাথায় সেটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যদিও তখন কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পরে দপ্তর জানায়, সতর্কতাবশত ছবিটি সাময়িকভাবে সরানো হয়েছিল। পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই ছবিতে এপস্টিনের কোনও ভুক্তভোগী নেই। এরপর ছবিটি পুনরায় প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন এক সময়ের প্রভাবশালী মার্কিন অর্থলগ্নিকারী। উচ্চপ্রোফাইল ক্লায়েন্টদের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগে ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তীতে ফেডারেল তদন্ত শুরু হয় ও ২০১৯ সালে ফের গ্রেপ্তার হন তিনি। সেই বছরই জেলে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয়, যা সরকারি ভাবে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়।
এপস্টিনের বিস্তৃত যোগাযোগের জাল ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বহু বিতর্ক, তদন্ত ও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক নথি প্রকাশ সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিয়েছে। যদিও ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এই বিতর্কে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই ও তিনি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ।












Click it and Unblock the Notifications