সংযুক্ত ইউএসএসআর-এর ভাবনা, ইউক্রেনের পর পোল্যান্ডে লক্ষ্য পুতিনের
সংযুক্ত ইউএসএসআর-এর ভাবনা, ইউক্রেনের পর পোল্যান্ডে লক্ষ্য পুতিনের
এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত৷ সামরিক অস্ত্রাদির পাশাপাশি এই যুদ্ধে জৈব রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারও হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। দুইপক্ষের কেউই পিছু হঠতে রাজি নয়, এমতাবস্থায় চিন্তা বাড়ছে পোল্যান্ডকে নিয়ে।

টানা দু'বছরের কোভিড মহামারির জেরে এমনিই ধুঁকছিল গোটাবিশ্ব। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা যুদ্ধের দামামা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের পর এবার রাশিয়ার রোষানলে পড়তে পারে পোল্যান্ড। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে অবধি ইউক্রেন ছিল অবস্থান ও নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। কাগজে-কলমে ন্যাটো মদতপুষ্ট দেশ ছিল ইউরোপের এই দেশটি। তবে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে। সরাসরি ন্যাটো সদস্য না হওয়ার দরুণ সামরিক সাহায্যের হাত বাড়ায়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমি দেশগুলি।
ইউক্রেন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলে এবার নীতিগত ও অবস্থানগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠবে পোল্যান্ড। রাশিয়া এবং পশ্চিমি দেশের মধ্যে দেওয়াল হয়ে উঠবে তারা৷ এই মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ ইউক্রেনীয় শরনার্থীর বাসস্থান হয়ে উঠেছে পোল্যান্ড। ইউক্রেনের ৩.৩ মিলিয়ন শরনার্থীদের মধ্যে ২ মিলিয়ন মাথা গুঁজেছেন পোল্যান্ডে। যার ফলে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছে পোল্যান্ড প্রশাসন। জনসংখ্যার চাপে বেকায়দায় পড়েছে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। তবে পোল্যান্ড প্রশাসনের চিন্তা বাড়াচ্ছে রাশিয়ান আক্রমণের সম্ভাবনা।
বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন ইউক্রেন আক্রমণ কোনও বিক্ষিপ্ত কিংবা ছোট্ট ঘটনা নয়। রাশিয়া পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফের আগের মতোই অবিভক্ত রাশিয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্যই একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাঁরা। আর ঠিক এই ভয়েই কাঁটা হয়ে রয়েছে পোল্যান্ড৷ এতদিন ধরে তাঁরা ন্যাটোর নেতাদের সতর্ক করে আসছিলেন৷ তবে তাঁদের আবেদনে সেভাবে কান দেয়নি ন্যাটো। এবার সত্যিই দরজার সামনে বিপদ উপস্থিত। ন্যাটোও জানে সে কথা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে সেদেশে। ইউক্রেনকে সাহায্যের জন্য সামরিক অস্ত্রাদিও সরবরাহ হচ্ছে পোল্যান্ডের মাধ্যমেই।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইউক্রেনের পর যদি রাশিয়া ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের দিকে হাত বাড়ায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ন্যাটোর অন্যান্য দেশ চুপ থাকবে না। সেক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনাও কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।












Click it and Unblock the Notifications