চাকরির 'দায়ে' মহিলার চোখ উপড়ে নেওয়া হয়, স্মার্টফোন ব্যবহারে নারকীয় সাজা! এই তালিবান নেতাদের নিষ্ঠুরতা একনজরে
চাকরির 'দায়ে' মহিলার চোখ উপড়ে নেওয়া হয়, স্মার্টফোন ব্যবহারে নারকীয় সাজা! এই তালিবান নেতাদের নিষ্ঠুরতা একনজরে
বোরখা না পরায় ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে মহিলাদের মাথায় বন্দুক রেখে খুনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে তালিবানরা। গোটা দেশ আপাতত আফগানিস্তানের সরকারের থেকে দখল করে নিয়ে নিজেদের কবলে রেখেছে নৃশংস তালিবানিরা। তাদের প্রবল ত্রাসে গোটা আফগানিস্তান ত্রস্ত। বহু মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তালিবানের নেতাদের কিছু নৃশংস ঘটনার খবর বারবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

মহিলারা চাকরি করাতেই চোখ উপড়ে নেওয়া হল!
ঘটনা আফগানিস্তানের গজনি প্রভিন্সের। সেখানে গত অক্টোবর মাসে এক মহিলার চোখ উপড়ে ফেলে তালিবানরা। মহিলার 'অপরাধ' ছিল, তাঁর চাকরি। তিনি চাকরি করতেন পুলিশে। আর সেই পুলিশকর্মী মহিলাকে টেনে হিঁচড়ে তালিবানরা তাঁর চোখ উপড়ে এলাকাবাসীকে 'শিক্ষা' দেয়। 'শিক্ষা' এটাই যে এলাকায় কোনও মহিলা চাকরি করলেই তাঁর চোখ উপড়ে ফেলা হবে। ৩৩ বছরের খাতেরা নামের ওই মহিলা একদিন রাস্তা দিয়ে চলার সময় দেখেন যে কয়েকটি মোটরবাইক তাঁর দিকে আসছে। এরপর সেখান থেকে একজন ছুরির কোপ বসিয়ে দেয় খাতেরার চোখে। পুলিশের মহিলা কর্মী খাতেরার সেটাই শেষ দেখা দৃশ্য।

স্মার্টফোন সঙ্গে থাকায় নারকীয় সাজা!
তালিবানের মতে, গান শোনা ইসলাম বিরোধী কাজ। আর সেই কারণে গান শোনার জন্য যে কোনও সরঞ্জাম কাছে রাখলেই তা হয় জ্বালিয়ে দিত, নয় তো সেই সরঞ্জামের মালিককে প্রবল সাজা দিত। এক্ষেত্রে সোনা যায় জনৈক কামালুদ্দিনের কথা। আফগানিস্তানের বাসিন্দা কামালুদ্দিনের বাবা ও দাদার কাছে ছিল স্মার্টফোন। একবার তালিবানিরা তা জানতে পেরেই সিমকার্ড কামালুদ্দিনের বাবা ও দাদাকে গিলে খেতে বলে। সেই ঘটনার পর থেকে কামালুদ্দিনের মতো বহুজনই ত্রস্ত হয়ে যায়।

মুল্লাহ দাদউল্লাহর নৃশংসতা
১৯৯০ সালে আফগানিস্তানে তালিবান প্রথমে আসে। সেই সময় তালিবানের ত্রাস কার্যত একাধিক ঘটনার হাত ধরে বিশ্বর দরবারে উঠে আসে। তালিবান প্রধান মোল্লা ওমরের সঙ্গে নয়ের দশকেই এক নেতা আফগানিস্তানের বুকে তালিবানি শাসনের সময় কার্যত ত্রাস হয়ে উঠতে থাকে। এর নাম মোল্লা দাদুল্লাহ। এই মোল্লা দাদুল্লাহর সঙ্গে তালিবানের নেতা মোল্লা ওমরের সংঘাত রীতিমতো পারদ চড়ায়। এই পরিস্থিতিতে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইতে তালিবান প্রধান মোল্লা ওমর হারায় পা, আর মোল্লা দাদুল্লাহ হারায় একটি চোখ। তবে এরপরও তালিবানের কথা যে আফগান গ্রামে শোনা হত না, সেই আফগান গ্রাম জ্বালিয়ে দিত মোল্লা দাদুল্লাহ। হাজার হাজার আফগান উপজাতির হাজারাকে মোল্লা দাদুল্লাহর নির্দেশেই খুনও করা হয়।
এরপর একটা সময় ন্যাটো বাহিনীর হানায় মোল্লা দাদউল্লাহর হত্যা হয়।

পীর আঘা
তালিবানের নেতাদের মধ্যে অন্যতম নাম পীর আঘা। যাকে, ২০১৮ সালে খতম করে ন্যাটো বাহিনী। তার আগে পর্যন্ত বহু আদিবাসী গ্রামে পর পর আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে এই তালিবান নেতা পীর আঘার হাত ধরে। এই গ্রামের বাসিন্দাদের অপরাধ ছিল, তাঁরা তালিবানিদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। বহু গ্রামে তালিবান থেকে পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের আশ্রায় দেওয়ার 'অপরাধে'ও প্রবল হামলা চালানো হয়। গ্রামের পর গ্রাম খুনের রক্তে ভেসে যায়।

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে আফগানিস্তানের প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকা দখল করে ফেলেছে তালিবান। তবে তাদের দাপট ধাক্কা খেয়েছে আফগানিস্তানের পাঞ্জশিরের কাছে এসে। সেখানে ভাই প্রেসিডেন্টে আমনুল্লাহর বাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত হয় তালিবান। এদিকে, আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি দেশ তেকে বহুদিন আগেই পালিয়েছেন বলে খবর। জানা যায়, রবিবার তালিবান কাবুল দখল করতেই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন গনি। এরপর তিনি দেশ ছাড়া । এদিকে, আফগানিস্তান ভিন দেশের রাষ্ট্রনিবাস থেকে দাবি করছে যাতে আশরফ গনিকে গ্রেফতার করে ইন্টারপোল। রাশিয়ার এক রিপোর্ট আনুযায়ী, আশরফ গনি ও তাঁর পরিবার চারটি গাড়ি, টাকা, ও হেলিকপ্টার নিয়ে দেশ ছাড়েন। সাম্প্রতিক খবরে জানা গিয়েছে, তাকে আমিরশাহী আশ্রয় দিয়েছে মাববিকতার নিরিখে।












Click it and Unblock the Notifications