ডেল্টার প্রভাবে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় করোনার চতুর্থ ওয়েভ
ডেল্টার প্রভাবে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় করোনার চতুর্থ ওয়েভ
২০১৯ এর শেষ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসটি নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে মানবজাতির কাছে। ভারত যখন করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ পার করে তৃতীয় ওয়েভের ঝড় সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক তখনই ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও আফ্রিকাতে করোনার চতুর্থ ঢেউ আছঠে পড়ছে।

সম্প্রতি WHOর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে করোনার ডেল্টা স্ট্রেন নিয়ে। অরিজিনাল করোনা ভাইরাসটির থেকেও ১০ গুণ বেশি সংক্রামক ও মারণ ক্ষমতা ধরে করোনার এই ত্রিপল মিউটেন্ট স্ট্রেনটি। B.1.617.2 এই ত্রিপল মিউটেন্ট ভাইরাসটিই-ই ডেল্টা নামে পরিচিত৷ কিছুদিন আগেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে WHO জানিয়ে ছিল ভ্যাকসিনের সুরক্ষা বলয় পর্যন্ত ভাঙতে সক্ষম স্ট্রেনটি৷ ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজ সম্পূর্ণ হয়ে থাকলেও করেনার ডেল্টা স্ট্রেনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা নেই বলেও গবেষণায় উঠে এসেছিল৷
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় জোনের রিজিওনাল ডিরেক্টর আহমেদ আল মান্দারি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'পশ্চিম ভূমধ্যসাগর এবং হু-এর এলাকা জুড়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অবশ্যই আশঙ্কার বিষয়। চলতি সপ্তাহেই মৃত এবং সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে৷ হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ রোগীরই ভ্যাকসিনেশন হয়নি৷ পুরো এলাকা জুঠে কোভিডের চতুর্থ ঢেউয়ের ঝাপটা সহ্য করছি আমরা।
ডেল্টার প্রভাবে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সংক্রমণ বেড়েছে ৫৫ শতাংশ৷ একইভাবে কোভিডে মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ। চলতি সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়ে পৌঁছেছে ৩ লক্ষ ১০ হাজারে৷ অন্যদিকে কোভিডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০০ তে৷
এই পরিমাণ কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য অত্যধিক সংক্রমণ ক্ষমতা যুক্ত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি টিকাকরণ না হওয়াকেই দায়ী করেছে WHO, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আফ্রিকা ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অনেক জায়গাতেই এখনও বেশিমাত্রায় ভ্যাকসিনেশন করা সম্ভব হয়নি। এই সব এলাকা থেকেই মূলত কোভিড সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ার খবর আসছে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনকা সহ একাধিক ভ্যাকসিন কোম্পানি। টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নিয়মের ব্যবধান মেনে তাদের টিকার দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করলে ডেল্টার হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে কোনও মানুষ সংক্রমিত হলেও বিষয়টি মৃত্যুর দিকে যাবে না। প্রসঙ্গত, অ্যাস্ট্রোজেনকার নিয়ম মেনেই ভারতে তৈরি হয়েছে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনটি।












Click it and Unblock the Notifications